আসছে ‘ঘূর্ণিঝড় মন্থা’, ঘুম উড়ল পশ্চিম মেদিনীপুরের কৃষকদের! পাকা ধান ও আলু চাষ বাঁচাতে চলছে চরম ব্যস্ততা

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘মন্থা’-এর পূর্বাভাসে চরম ব্যস্ততা শুরু হয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কৃষকদের মধ্যে। আবহাওয়া দফতর ঘূর্ণিঝড় ও বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়ায় জমিতে থাকা পাকা ধান দ্রুত হারভেস্টার মেশিন ও হাত দিয়ে কেটে ঘরে তোলার প্রাণপণ চেষ্টা করছেন তাঁরা। মন্থার প্রভাবে ফসল ও পরবর্তী আলুর চাষে চরম ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘মন্থা’ অন্ধ্রপ্রদেশের কাকিনাডাতে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে বুধবার ভোরের মধ্যে স্থলভাগে প্রবেশ করবে। যদিও ল্যান্ডফল অন্ধ্র উপকূলে হবে, এর প্রভাব বাংলায়ও পড়বে। মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবারের মধ্যে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে উপকূলীয় এলাকায় এবং দক্ষিণবঙ্গে বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টি হতে পারে।
ক্ষতির আশঙ্কায় দিশেহারা কৃষকেরা
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ঘাটাল এবং চন্দ্রকোনা এলাকার কৃষকদের চোখে এখন দুশ্চিন্তার ছাপ। তাঁদের দাবি, চলতি বছরের শুরু থেকেই প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কৃষিকাজের চরম ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে।
ক্ষতির কারণগুলো:
১. পাকা ধান: এই সময় পাক ধরার মুখে থাকা ধান যদি জল-ঝড় পায়, তবে ফসলের চরম ক্ষতি হবে এবং ধানের গুণগত মান কমবে। এমনিতেই চলতি বছরে ধানের দাম কম, তার উপরে গুণগত মান কমলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। ২. পোকার উপদ্রব: চলতি বছর ধান গাছে পোকার উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় ওষুধে খরচ বেড়েছে। ৩. আলু চাষের বিলম্ব: যেসব কৃষক এই সময় জলদি (পোখরাজ জাতীয়) আলু চাষ করবেন বলে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, বৃষ্টি হলে আবার মাটি ভিজবে। ফলে পিছিয়ে যাবে পোখরাজ জাতীয় আলুর চাষ।
কৃষকদের এখন একমাত্র লক্ষ্য, যেকোনো উপায়ে হারভেস্টার বা হাতের সাহায্যে পাকা ধানগুলি ঘরে তুলে এনে নিজেদের বছরের ফসল রক্ষা করা।