পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষিতে রাজ্য প্রশাসনের কার্যকলাপে যে নতুন গতির সঞ্চার হয়েছে, তার প্রমাণ মিলল আজ। নবান্নের করিডোর ছেড়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাধারণ মানুষের সমস্যার সমাধানে যে ‘জনতার দরবার’ চালু করেছেন, তার দ্বিতীয় দিনেই উঠে এল এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর ইস্যু। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বঞ্চিত ও চাকরিহারা শিক্ষকদের মোট ৩৫টি সংগঠনের প্রতিনিধিরা এদিন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। দীর্ঘ টালবাহানা ও আইনি জটিলতায় জর্জরিত এই শিক্ষকদের দাবিদাওয়া মনোযোগ দিয়ে শোনেন মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ ও প্রতিনিধিদের প্রতিক্রিয়া
মুখ্যমন্ত্রীর জনতার দরবারে এদিন হাজির হয়েছিল ‘যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকা-শিক্ষাকর্মী ঐক্য মঞ্চ’ ও বিভিন্ন অনশনকারী সংগঠনের প্রতিনিধিরা। দীর্ঘদিন ধরে যারা আন্দোলনের পথে ছিলেন, তারা এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ পান। প্রতিনিধিদের মতে, আগের প্রশাসনের আমলে আমলাদের কাছে পৌঁছানো বা তাদের সমস্যা তুলে ধরা ছিল এক দুঃসাধ্য ব্যাপার। কিন্তু এদিন মুখ্যমন্ত্রী নিজে সময় নিয়ে তাঁদের বক্তব্য শোনেন।
বৈঠক শেষে চাকরিহারা শিক্ষকদের প্রতিনিধিরা কিছুটা আশ্বস্ত হয়েই বেরিয়ে আসেন। তাঁদের কথায়, “দীর্ঘদিন আমরা অবহেলিত ছিলাম, কিন্তু আজ মুখ্যমন্ত্রী আমাদের সব কথা মন দিয়ে শুনেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, কিছু ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া বা আদালতের বিষয় জড়িত থাকায় হুট করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। তবে আদালত ও সংশ্লিষ্ট ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের পথ বের করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।”
আন্দোলনকারীদের দাবির প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, গত কয়েক বছর ধরে ওএমআর (OMR) শিট সংক্রান্ত বিতর্কে বহু যোগ্য প্রার্থী চাকরি হারিয়েছেন বা নিয়োগ প্রক্রিয়ার বাইরে চলে গেছেন বলে অভিযোগ। তাদের দাবি ছিল—যোগ্যতার মাপকাঠিতে যারা বৈধ, তাদের নিয়োগ পুনরায় নিশ্চিত করতে হবে। এতদিন ধরে তারা রাজপথে আন্দোলন করলেও সেই দাবি ধামাচাপা পড়েছিল। বর্তমান রাজ্য সরকারের কাছে নিয়োগের সেই পুরনো দাবিটিই নতুন করে জোরালোভাবে পেশ করলেন আন্দোলনকারীরা।
সমাধানের পথে প্রশাসন?
মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপ রাজ্য রাজনীতির প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। নির্বাচনী জয়ের পর সরকার যে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে চাইছে, তা এই বৈঠকের মাধ্যমেই স্পষ্ট হলো। প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায় থেকে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস মেলায় রাজ্যজুড়ে চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। এখন দেখার, আইনি জটিলতা কাটিয়ে কবে নাগাদ এই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত জট খোলে।





