আর রেহাই নেই প্রশ্নফাঁস চক্রের! দুর্নীতি মেটাতে প্রযুক্তি ও আইনের জোড়া ফলায় কঠোর বার্তা কেন্দ্রের

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভারতের পরীক্ষা ব্যবস্থায় আস্থা ফেরাতে বেশ কিছু বড় এবং যুগান্তকারী সংস্কারের কথা ঘোষণা করেছেন। দেশজুড়ে বারবার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় ছাত্রসমাজ ও অভিভাবকদের মধ্যে তৈরি হওয়া অনাস্থা দূর করতে এবং পড়ুয়াদের সুরক্ষিত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত জোরালো কণ্ঠে জানিয়েছেন যে, দেশের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ ও কল্যাণ সরকারের কাছে সবকিছুর ঊর্ধ্বে। তাই প্রশ্ন ফাঁসের মতো গুরুতর অপরাধে জড়িতদের দ্রুততম উপায়ে কঠোর শাস্তি দিতে বিশেষ ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট গঠনের কথা ঘোষণা করেছেন তিনি। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলিকে অবিলম্বে এই বিষয়ে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভারতের সমগ্র শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও দুর্নীতিমুক্ত, স্বচ্ছ, সুরক্ষিত এবং প্রযুক্তি-নির্ভর করে তুলতে কেন্দ্র এক সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার রূপায়ণ শুরু করেছে। এই আইনি সংস্কারের পাশাপাশি কেন্দ্র একটি আধুনিক প্রযুক্তি-নির্ভর পরীক্ষা পরিচালনা ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ হাতে নিয়েছে। পাবলিক পরীক্ষাগুলির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং সর্বোচ্চ কার্যকারিতা বাড়াতে ইনফোসিসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং আধুনিক ভারতের ডিজিটাল পরিকাঠামোর অন্যতম রূপকার নন্দন নিলেকানির নেতৃত্বে একটি উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়েছে। এই বিশেষ টাস্ক ফোর্স ভারতের পরীক্ষা পদ্ধতিতে দুর্নীতি সমূলে উৎপাটন করতে এবং একে সম্পূর্ণ আধুনিকীকরণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ও কাঠামোগত পরিবর্তনের সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করবে।
প্রধানমন্ত্রীর এই সাহসী ও সময়োপযোগী ঘোষণাকে ভূয়সী প্রশংসা করে স্বাগত জানিয়েছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা। তিনি তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন যে, এই সংস্কারগুলি দেশের অগণিত পড়ুয়ার স্বার্থরক্ষায় সরকারের নিরঙ্কুশ দায়বদ্ধতারই স্পষ্ট প্রতিফলন। তাঁর মতে, এই যুগান্তকারী উদ্যোগ একদিকে যেমন প্রশ্ন ফাঁসের মতো জঘন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা এবং সময়মতো বিচার নিশ্চিত করবে, তেমনই সামগ্রিক পরীক্ষা ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের হারিয়ে যাওয়া আস্থা পুনর্নির্মাণে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে।
সাম্প্রতিক বছরগুলিতে একের পর এক প্রশ্ন ফাঁসের বিতর্ক সর্বভারতীয় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া লক্ষ লক্ষ মেধাবী পড়ুয়ার মনে গভীর হতাশা ও উদ্বেগ তৈরি করেছিল। পরীক্ষার্থীরা আরও শক্তিশালী সুরক্ষা বেষ্টনী, কঠোরতম আইন এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোরালো দাবি জানিয়ে আসছিল। কেন্দ্রীয় সরকার মনে করছে যে, বিচারবিভাগীয় সংস্কারের সঙ্গে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি-ভিত্তিক সমাধানগুলির সঠিক মেলবন্ধন ঘটালেই কেবল ভবিষ্যতে এই ধরনের সংগঠিত অপরাধ পুরোপুরি রোধ করা সম্ভব হবে। এর ফলে দুর্নীতিগ্রস্ত চক্রের খপ্পরে পড়ে কোনো যোগ্য ও মেধাবী পরীক্ষার্থী যাতে কাঙ্ক্ষিত সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করা যাবে। ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট স্থাপন, কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা এবং সম্পূর্ণ স্বচ্ছ পরীক্ষার পরিকাঠামোর ওপর নতুন করে জোর দিয়ে সরকার ভারতের শিক্ষা ও পরীক্ষা ব্যবস্থার ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করতে বদ্ধপরিকর। এর মধ্য দিয়ে সরকার স্পষ্ট বার্তা দিতে চায় যে, কোনো ধরনের দুর্নীতির প্রশ্রয় দেওয়া হবে না এবং একমাত্র যোগ্যতাই যেন দেশের ভবিষ্যৎ কর্ণধারদের ভাগ্য নির্ধারণ করে।