আর কোনও আবেদন নয়, এবার লড়াই! গঙ্গা-ফুলহরের ভাঙন রোধে স্থায়ী কাজের দাবিতে আন্দোলনে নামছে ভূতনি চরের ছাত্রসমাজ

গঙ্গা ও ফুলহর নদীর লাগাতার ভাঙন এবং প্রশাসনের উদাসীনতার অভিযোগ তুলে এবার বৃহত্তর আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি নিল মালদার ভূতনি চরের ছাত্রসমাজ। তাঁদের অভিযোগ, রাজ্য বা কেন্দ্র—কোনও সরকারই ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধান করছে না। প্রতি বছরই নদী পারের মানুষজন ভিটেমাটি হারিয়ে ভিখারি হয়ে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে।

ভূতনি চরের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, প্রতি বছর তাঁরা স্থায়ী ভাঙন প্রতিরোধের দাবি জানালেও প্রশাসন সেই কথা কানে তোলে না। নিজেদের ইচ্ছেমতো, প্রতি বছর শুখা মরশুম পেরিয়ে যাওয়ার পর তাড়াতাড়ি বাঁধের কাজ করা হয়, যা কোনও স্থায়ী সমাধান দিতে পারে না।

ভাঙনে বানভাসি ভূতনি চর
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নদীভাঙনে ভূতনি চরের অবস্থা আরও ভয়াবহ হয়েছে।

দু’বছর আগে কাটাবাঁধ এলাকায় বাঁধ উড়ে গিয়ে কয়েকমাস ভূতনিবাসী জলের তলায় ছিলেন।

গত বছর ভাঙা অংশ দিয়ে জল ঢুকে ফের প্লাবিত হয় চর।

চলতি বছর প্রথমে মেরামত করা বাঁধ ভেঙে উত্তর ও দক্ষিণ চণ্ডীপুর এবং হীরানন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিস্তীর্ণ এলাকা জলের নীচে চলে যায়। সেই জল নামার আগেই আবার পশ্চিম রতনপুর গ্রামের বাঁধ ভাঙে।

পুজো পেরিয়ে গেলেও চরের সব জায়গা থেকে এখনও জল নামেনি।

ছাত্রসমাজের নেতৃত্বে নতুন আন্দোলন
বারবার আবেদন-নিবেদন করেও কাজ না হওয়ায়, এবার আন্দোলনের অভিমুখ পরিবর্তন ঘটিয়েছে চরবাসী। ১ অক্টোবর থেকে ছাত্ররা চরের তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় বৈঠক ও মিছিল করে নিজেদের আন্দোলন সংগঠিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

আন্দোলনকারী প্রতিনিধি নাসিম শেখ বলেন, “আমাদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গিয়েছে। দিস্তা দিস্তা চিঠি দেওয়া হয়েছে দুই সরকার-সহ প্রশাসনকে। ভাঙন বা বন্যা হলে প্রশাসনিক কর্তারা আসেন, প্রতিশ্রুতি দেন, তারপর চলে যান। কাজ কিছুই হয়নি। তাই এবার আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আর কোনও আবেদন নিবেদন নয়, আন্দোলন করেই নিজেদের হক আদায় করব।”

আরেক আন্দোলনকারী আকিব আলম বলেন, “প্রশাসন শুধুমাত্র নদীতে বালি-মাটির বস্তা ফেলা ছাড়া আর কোনও পদক্ষেপ করছে না। সরকার পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করছে না। তাই বাধ্য হয়েই আমরা আন্দোলনে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

আগামী ৭ অক্টোবর পর্যন্ত তাঁরা চরবাসীদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে যাবেন। তারপর উৎসব মরশুম শেষ হলেই জোরদার আন্দোলনে নামা হবে। এই আন্দোলন শুরু হলে প্রশাসনিক কাজকর্ম থেকে সাধারণ নাগরিক জীবন স্তব্ধ হয়ে যেতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ছাত্ররা।

আকিব আলম স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই আন্দোলন সম্পূর্ণ অরাজনৈতিকভাবে সংগঠিত করা হচ্ছে এবং কোনও রাজনৈতিক দলের ঝান্ডা নিয়ে আন্দোলনে অংশ নেওয়া যাবে না।

প্রশাসনের নজরদারি
পড়ুয়াদের এই আন্দোলনের কথা প্রশাসনের কানেও গিয়েছে। যদিও সেচ দফতরের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার শুভঙ্কর গুড়িয়া এ নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে জেলা প্রশাসনের এক কর্তা জানিয়েছেন, “ভূতনিতে ছাত্রদের আন্দোলনের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা পরিস্থিতির উপর নজর রেখে চলেছি এবং ছাত্রদের সঙ্গেও কথা বলা হবে।”