‘আর্থিক কষ্টেও থামেনি হাতের কাজ’, অভাবের তাড়নায় কাঁদরানীর পথে ৭০ বছরের এই পাথর শিল্পী

বয়সের ভারে চোখে কম দেখলেও, এবং শরীর তেমন সঙ্গ না দিলেও, হাতের জাদুতে আজও পাথরকে জীবন্ত করে তোলেন ৭০ বছর বয়সী শিল্পী নব মিস্ত্রি। জঙ্গলমহলের বেলপাহাড়ির শিমুলপাল গ্রামের এই বৃদ্ধ, লাল ও সাদা পাথর দিয়ে বিভিন্ন দেব-দেবীর মূর্তি তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তার অদম্য জেদ এবং শিল্পপ্রেমের গল্প সত্যিই অবাক করার মতো।

শিল্পী জীবন ও সংগ্রাম
বেলপাহাড়ির খাঁদারানী ড্যামে গেলেই দেখা মিলবে এই পাথর শিল্পীর। প্রতিদিন সকালে বাড়ি থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পথ হেঁটে তিনি এখানে পৌঁছান, এবং হাতুড়ি ও বাটালি দিয়ে পাথর কেটে মূর্তি তৈরি করেন। নব মিস্ত্রি দিনে তিন থেকে চারটি মূর্তি তৈরি করতে পারেন। তার হাতের কাজে যেন বয়সের ছাপ নেই, বরং তাতে রয়েছে এক তরুণের সূক্ষ্মতা ও দক্ষতা।

তিন বছর আগে স্ত্রীকে হারানোর পর তার জীবন আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। একসময় তিনি বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে নিজের হাতে গড়া মূর্তি বিক্রি করতেন, কিন্তু এখন আর তা সম্ভব হয় না। তার একমাত্র রোজগারের পথ হলো খাঁদারানী ড্যামের পাশে বসে পর্যটকদের কাছে তার শিল্পকর্ম বিক্রি করা।

স্বীকৃতি ও বর্তমান দুর্দশা
নব মিস্ত্রি তার শিল্পের জন্য রাজ্য ও জেলা থেকে অনেক সম্মাননা পেয়েছেন, এমনকি কলকাতার প্রদর্শনীতেও তার শিল্পকর্মের প্রদর্শন হয়েছে। কিন্তু আজ অভাবের তাড়নায় তিনি পথে বসতে বাধ্য হয়েছেন। প্রতিটি পাথরের মূর্তি বিক্রি হয় মাত্র তিনশো থেকে চারশো টাকায়, আর সব দিন সমানভাবে বিক্রিও হয় না।

জঙ্গলমহল পর্যটন শিল্পে অনেক উন্নত হলেও, এখানকার অনেক শিল্পীর জীবনযাত্রার মান এখনো সেই অর্থে উন্নত হয়নি। নব মিস্ত্রির মতো শিল্পীরা আজও শুধুমাত্র নিজেদের পরিশ্রমের ওপর নির্ভর করে বেঁচে আছেন, কারণ তাদের পাশে দাঁড়ানোর মতো আর কেউ নেই। তার এই গল্প শুধু তার ব্যক্তিগত সংগ্রামের কথাই বলে না, বরং জঙ্গলমহলের অনেক প্রতিভাবান শিল্পীর নীরব দুর্দশার চিত্রও তুলে ধরে।