‘প্রধানমন্ত্রীকে অপমান করতে পারেন না’, পুজো কমিটিগুলোকে বিজেপির অনুদান প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ

আসন্ন দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে এবার নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে বিজেপি। সূত্রের খবর অনুযায়ী, কলকাতার একাধিক পুজো কমিটিকে অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বঙ্গ বিজেপি। তবে এই অনুদানের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া শর্ত নিয়েই তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। জানা গেছে, অনুদান গ্রহণকারী ক্লাবগুলোকে তাদের মণ্ডপের বাইরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ছবি রাখতে হবে।
রাজনৈতিক চাপানউতোর
এই খবর সামনে আসতেই তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপিকে নিশানা করে। তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি দুর্গাপুজোর মতো একটি সার্বজনীন সামাজিক উৎসবকে রাজনৈতিক প্রচারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে। তারা বলছে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন অনুদান দেন, সেটি রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়, কিন্তু বিজেপি সরাসরি রাজনৈতিক স্বার্থে ক্লাবগুলোর ওপর শর্ত চাপিয়ে দিচ্ছে।
অন্যদিকে, বিজেপি এই অভিযোগকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। দলের এক নেতা বলেন, “সরকার যদি টাকা দিলে মমতা বা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি মণ্ডপে থাকতে পারে, তাহলে বিজেপি টাকা দিলে মোদীর ছবি রাখলে অসুবিধা কোথায়?”
অনুদান কমিটি ও সাধারণ মানুষের ক্ষোভ
জানা গেছে, অনুদান বণ্টনের জন্য অভিনেতা ও বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তীর নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিই ক্লাবভেদে কত টাকা অনুদান দেওয়া হবে, তা চূড়ান্ত করবে।
এই শর্তটি প্রকাশ্যে আসতেই সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের মতে, দুর্গাপুজো বাংলার সংস্কৃতি ও মানুষের মিলনের উৎসব, সেখানে রাজনীতির শর্ত চাপানো একেবারেই উচিত নয়। তাদের বক্তব্য, “উৎসব মানে আনন্দ, সেখানে রাজনৈতিক প্রতীকের জোরাজুরি মেনে নেওয়া যায় না।”
তৃণমূল কটাক্ষ করে বলেছে, “বাংলার মানুষকে নিজেদের পক্ষে টানতে না পেরে বিজেপি এখন পুজো মণ্ডপেও রাজনীতি ঢুকিয়ে দিতে চাইছে।” সব মিলিয়ে, দুর্গাপুজোর অনুদানকে ঘিরে বিজেপি ও তৃণমূলের রাজনৈতিক লড়াই এখন মণ্ডপ পর্যন্ত পৌঁছে গেছে।