দরজায় কড়া নাড়ছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ। আগামী ১২ জুন থেকে শুরু হতে চলা এই মেগা টুর্নামেন্টকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে চড়ছে উত্তেজনার পারদ। কাতার বিশ্বকাপে সৌদি আরবের কাছে প্রথম ম্যাচে হেরেও রূপকথার মতো ঘুরে দাঁড়িয়েছিল আর্জেন্টিনা, শেষ পর্যন্ত চুমু খেয়েছিল সোনালী ট্রফিতে। এবার উত্তর আমেরিকায় কী হবে? খেতাব ধরে রাখতে কি পারবে আলবিসেলেস্তেরা? নাকি ট্রফি যাবে অন্য কোনো শিবিরে? এই কোটি টাকার প্রশ্নের উত্তর দিলেন স্বয়ং ফুটবল সম্রাট লিওনেল মেসি।
মেসির চোখে ফেভারিট কারা? নিজের দেশ আর্জেন্টিনাকে নিয়ে সতর্ক থাকলেও মেসি মনে করেন এবারের ট্রফি জয়ের দৌড়ে বেশ কয়েকটি দল মারাত্মক শক্তিশালী। তাঁর মতে, গতবারের রানার্স-আপ ফ্রান্স এবারও প্রচণ্ড ছন্দে আছে। কিলিয়ান এমবাপেদের দলে উচ্চমানের ফুটবলারের আধিক্যকেই এর প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন তিনি।
স্পেন এবং চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলকেও কড়া চ্যালেঞ্জার হিসেবে গণ্য করছেন মেসি। তাঁর সাফ কথা, “স্পেন বা ব্রাজিলের মতো দলকে কখনও অগ্রাহ্য করা যায় না। সত্যি বলতে, টুর্নামেন্ট শুরুর আগে এই দলগুলো আর্জেন্টিনার চেয়েও ভালো অবস্থায় আছে।” ফুটবল বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, নিজের দলের উপর থেকে প্রত্যাশার চাপ কমিয়ে বিপক্ষ শিবিরকে চাপে রাখতেই সুকৌশলে এমন মন্তব্য করেছেন এলএম১০।
পর্তুগাল নিয়ে মেসির বড় মন্তব্য সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর পর্তুগালকে নিয়ে মেসির মূল্যায়ন। ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে থাকা সিআরসেভেন-এর পর্তুগাল দলকে এবার ‘ভয়ঙ্কর’ এবং ‘টক্কর দেওয়ার মতো দল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন মেসি। শুধু পর্তুগাল নয়, ইউরোপের আরও দুই শক্তিশালী প্রতিপক্ষ জার্মানি এবং ইংল্যান্ডকেও ‘বিপজ্জনক’ তকমা দিয়েছেন তিনি।
চোট এবং দলের ‘খিদে’ বিশ্বকাপের আগে ঠাসা ক্রীড়াসূচির কারণে অনেক ফুটবলারই ফিটনেস সমস্যায় ভুগছেন। তবে মেসি মনে করেন, জেতার তীব্র ইচ্ছা বা ‘খিদে’ থাকলেই সব বাধা টপকানো সম্ভব। তিনি বলেন, “যখন স্কোয়াডের সব ফুটবলার একত্রিত হয় এবং জেতার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে, তখন দল নিশ্চিত ভাবেই জয় পায়।”
নেইমার বনাম মেসি লড়াই? এদিকে মেসির বন্ধু নেইমারও চোট সারিয়ে বিশ্বকাপের জন্য মুখিয়ে আছেন। তিনি সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন, ফাইনালে মেসির আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধেই খেলতে চান তিনি। সব মিলিয়ে ১২ জুনের আগে মাঠের লড়াইয়ের চেয়েও এখন বেশি জমজমাট হয়ে উঠেছে ফুটবলারদের মনস্তাত্ত্বিক লড়াই।
এখন দেখার বিষয়, মেসির এই ‘বিপজ্জনক’ তালিকায় থাকা দলগুলোর মধ্যে শেষ পর্যন্ত কার হাতে ওঠে বিশ্বসেরার মুকুট।





