বিশ্বজুড়ে ক্ষমতার সমীকরণ কি বদলে যাচ্ছে? মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে যখন ধোঁয়ার কুণ্ডলী, ঠিক তখনই বিশ্বের দুই মহাশক্তিধর দেশ, আমেরিকা ও চীন তাদের নজর ঘুরিয়ে নিয়েছে খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ আফ্রিকা মহাদেশের দিকে। একে অপরের ঘাড়ের ওপর নিঃশ্বাস ফেলে দুই দেশই চাইছে আফ্রিকার ওপর নিজেদের আধিপত্য কায়েম করতে।
চীনের ‘জিরো ট্যারিফ’ মাস্টারস্ট্রোক: আফ্রিকায় নিজেদের শিকড় আরও শক্ত করতে ড্রাগনের দেশ চীন এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিয়েছে। তারা আফ্রিকার ৫৩টি দেশের জন্য ‘জিরো ট্যারিফ’ (Zero Tariff) বা শুল্কমুক্ত বাণিজ্যের ঘোষণা দিয়েছে।
এর ফলে আফ্রিকার উৎপাদিত পণ্য কোনো কর ছাড়াই চীনের বিশাল বাজারে প্রবেশ করতে পারবে।
এর বিনিময়ে চীন চায় আফ্রিকার খনি থেকে উত্তোলিত লিথিয়াম, কোবাল্ট এবং তামা—যা ভবিষ্যতে ইলেকট্রিক গাড়ি এবং উন্নত প্রযুক্তির জন্য অপরিহার্য।
আমেরিকার নতুন কৌশল: নজর ইরিত্রিয়ায়: চীন যখন বাণিজ্যের তাস খেলছে, আমেরিকা তখন কৌশলগত অবস্থানের ওপর জোর দিচ্ছে। লোহিত সাগরের তীরে অবস্থিত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দেশ ইরিত্রিয়ার সঙ্গে বন্ধুত্ব বাড়াতে মরিয়া ওয়াশিংটন।
লোহিত সাগরের এই রুটটি বিশ্ববাণিজ্যের লাইফলাইন। এখানে প্রভাব বজায় রাখতে পারলে সুয়েজ খালের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা সম্ভব।
আরব বিশ্বের অস্থিরতার মধ্যে আফ্রিকা মহাদেশে নিজেদের সামরিক ও কৌশলগত উপস্থিতি বাড়ানোই এখন পেন্টাগনের প্রধান লক্ষ্য।
কেন হঠাৎ আফ্রিকামুখী দুই শক্তি? ১. বিকল্প বাজারের সন্ধান: মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা তেল ও বাণিজ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তাই দুই দেশই আফ্রিকাকে একটি স্থিতিশীল বিকল্প হিসেবে দেখছে। ২. খনিজ সম্পদের লড়াই: ভবিষ্যতের চিপ যুদ্ধ বা ব্যাটারি প্রযুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ভাণ্ডার এখন আফ্রিকায়। ৩. ভোটের রাজনীতি: জাতিসংঘে আফ্রিকার দেশগুলোর বড় একটি ভোট ব্যাংক রয়েছে। আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নিজেদের পাল্লা ভারী করতে আফ্রিকাকে পাশে পাওয়া দুই শক্তির জন্যই জরুরি।
উপসংহার: মধ্যপ্রাচ্যের ‘আগুন’ থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে এখন আফ্রিকার মাটিকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে এক নতুন স্নায়ুযুদ্ধ। একদিকে চীনের অর্থনৈতিক প্রলোভন, অন্যদিকে আমেরিকার সামরিক কূটনীতি—শেষ পর্যন্ত কার দখলে যাবে এই মহাদেশ, সেটাই এখন দেখার বিষয়।





