আমেরিকার হাত ধরেই ফুটবলে ইতিহাস! শতবর্ষের মহাযুদ্ধে আগেই জায়গা পাকা করে ফেলল এই দলগুলি

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোর মাটিতে ফিফা বিশ্বকাপের রোমাঞ্চ শেষ হতে না হতেই এখন থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে আগামী ফুটবল মহাযুদ্ধের কাউন্টডাউন। ২০৩০ সালে বসতে চলেছে ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর অর্থাৎ ২৪তম ফিফা বিশ্বকাপ। এবারের মতোই আগামী চার বছর বাদেই যৌথভাবে তিনটি দেশ এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করতে চলেছে। নয়া বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের পাশাপাশি আফ্রিকার দেশ মরক্কো এবং ইউরোপের পর্তুগালে যৌথভাবে বসবে ২০৩০ সালের বিশ্বকাপের আসর। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, মূল পর্ব শুরুর অনেক আগেই এই মেগা টুর্নামেন্টের জন্য ইতিমধ্যেই মোট ছ’টি দেশ সরাসরি যোগ্যতা অর্জন করে ফেলেছে।

ফিফার সুপ্রাচীন এবং প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, তিন প্রধান আয়োজক দেশ— মরক্কো, পর্তুগাল এবং স্পেনের সরাসরি যোগ্যতা অর্জন করার বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই বোধগম্য। কিন্তু এর বাইরে গিয়ে লাতিন আমেরিকার ঐতিহ্যবাহী তিন দেশ উরুগুয়ে, আর্জেন্তিনা এবং প্যারাগুয়েও কীভাবে সরাসরি ২০৩০ বিশ্বকাপের মূল পর্বে প্রবেশাধিকার পেল, তা নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে কৌতূহলের অন্ত নেই।

প্রশ্ন উঠতেই পারে, বাকি তিনটি দেশ কীভাবে কোনো রকম বাছাই পর্ব ছাড়াই সরাসরি ছাড়পত্র পেল? এর নেপথ্যে রয়েছে এক ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট। আসলে ২০৩০ সাল হলো ফিফা বিশ্বকাপের শততম বর্ষপূর্তি। ঠিক একশো বছর আগে অর্থাৎ ১৯৩০ সালে উরুগুয়ের মাটিতেই প্রথম ফিফা বিশ্বকাপের আসর বসেছিল। শুধু তাই নয়, উরুগুয়েই ছিল ফুটবল ইতিহাসের প্রথম বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। স্বাভাবিকভাবেই বিশ্ব ফুটবলের মানচিত্রে লাতিন আমেরিকার এই দেশটির একটি অত্যন্ত স্বতন্ত্র এবং গৌরবোজ্জ্বল জায়গা রয়েছে। অন্যদিকে, ১৯৩০ সালের সেই প্রথম ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে রানার্স হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিল আর্জেন্তিনা। আর লাতিন আমেরিকার ফুটবল নিয়ামক সংস্থা ‘কনমেবল’ (CONMEBOL)-এর মূল সদর দফতর প্যারাগুয়েতে অবস্থিত হওয়ার কারণে ফিফা এই তিনটি দেশকে বিশেষ ছাড়পত্র প্রদান করেছে।

ফিফা সূত্রে জানা গিয়েছে, বিশ্বকাপের শতবর্ষের বর্ণাঢ্য উদযাপনস্বরূপ এই তিনটি লাতিন আমেরিকান দেশে আগামী বিশ্বকাপের প্রথম তিনটি ম্যাচের একটি করে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্বকাপের সুদীর্ঘ ইতিহাসে লাতিন আমেরিকার অবদান ও গুরুত্ব গভীরভাবে বিবেচনা করেই বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওই উদ্বোধনী প্রথম তিনটি ম্যাচ শেষ হওয়ার পরেই ২০৩০ বিশ্বকাপের মূল বহর আয়োজক তিন প্রধান দেশের মাটিতে স্থানান্তরিত হবে। তবে সহ-আয়োজক হিসেবে লাতিন আমেরিকার এই তিনটি দেশের নাম জড়িয়ে থাকার কারণে এবং শতবর্ষের বিশেষ সম্মানার্থে উরুগুয়ে, আর্জেন্তিনা এবং প্যারাগুয়েকে কোনো ধরনের কঠিন যোগ্যতা অর্জন পর্বের বৈতরণী পার হতে হচ্ছে না।