ইরানের বিরুদ্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক অভিযান কি খোদ আমেরিকার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কঙ্কালসার চেহারা বের করে দিচ্ছে? পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন এবং মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর রিপোর্টে তেমনই এক বিস্ফোরক তথ্য সামনে এসেছে। দাবি করা হচ্ছে, ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে আমেরিকা এত দ্রুত এবং এত বিপুল পরিমাণ অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে যে, তাদের নিজস্ব ভাণ্ডারে এখন ভয়াবহ টান পড়েছে।
শূন্য হচ্ছে অস্ত্রভাণ্ডার:
রিপোর্ট অনুযায়ী, চিন বা রাশিয়ার মতো বড় শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য যে বিশেষ ‘স্টিলথ’ মিসাইল (JASSM-ER) জমিয়ে রাখা হয়েছিল, তার ১,১০০টিই খরচ হয়ে গিয়েছে ইরানি নিশানায়। বর্তমানে আমেরিকার হাতে এই মিসাইল আর মাত্র ১,৫০০টি পড়ে আছে। এছাড়া ১,০০০টিরও বেশি টমাহক ক্রুজ মিসাইল এবং ১,২০০টির বেশি প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর মিসাইল ব্যবহার করা হয়েছে। উল্লেখ্য, প্রতিটি টমাহক মিসাইলের দাম প্রায় ৩৪ কোটি টাকা এবং প্যাট্রিয়ট মিসাইলের দাম প্রায় ৩৭ কোটি টাকা!
পকেটে টান, দিনে খরচ ৯ হাজার কোটি:
এই যুদ্ধের আর্থিক বোঝা রীতিমতো পিলে চমকানো। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৯,৪২৪ কোটি টাকা (১ বিলিয়ন ডলার) খরচ করছে আমেরিকা। ৩৮ দিনের যুদ্ধে এ পর্যন্ত মোট খরচের পরিমাণ ৩.৩০ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে। এমনকি যুদ্ধক্ষেত্রে স্পর্শকাতর প্রযুক্তি যাতে ইরানিদের হাতে না পড়ে, তার জন্য নিজেদেরই ৫টি দামি যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার ধ্বংস করতে হয়েছে মার্কিন বাহিনীকে।
বিপদে বিশ্ব-নিরাপত্তা?
সবচেয়ে চিন্তার বিষয় হলো, আমেরিকা এখন মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের জন্য এশিয়া এবং ইউরোপ থেকে অস্ত্র ও যুদ্ধজাহাজ সরিয়ে আনছে। দক্ষিণ কোরিয়া থেকে সরানো হয়েছে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ফলে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিনের মোকাবিলা বা ইউরোপে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ন্যাটোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সেনেটর জ্যাক রিড সতর্ক করে জানিয়েছেন, যে হারে মিসাইল খরচ হচ্ছে, তা পুনরায় তৈরি করতে কয়েক বছর সময় লাগবে। একদিকে ভাণ্ডার খালি হচ্ছে, অন্যদিকে নতুন অস্ত্র তৈরির অর্থ অনুমোদন না মেলায় আমেরিকা এখন এক বিপজ্জনক সামরিক সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে।





