আমেরিকার মসনদে বসেই ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিতে কড়া পদক্ষেপ নিতে শুরু করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন নাগরিকদের স্বার্থ সুরক্ষিত করতে এবং স্থানীয়দের কর্মসংস্থান ও অধিকার সুনিশ্চিত করতে এক ধাক্কায় ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা (Immigrant Visa) স্থগিত করার ঘোষণা দিল হোয়াইট হাউস। উদ্বেগের বিষয় হলো, এই তালিকার প্রথম সারিতেই রয়েছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের নাম।
বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এই নতুন ও কঠোর অভিবাসন নীতি ঘোষণা করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, অনির্দিষ্টকালের জন্য এই ৭৫টি দেশের নাগরিকদের ভিসা দান প্রক্রিয়া স্থগিত থাকবে। মার্কিন বিদেশ দপ্তর (State Department) সোশ্যাল মিডিয়ায় এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে লিখেছে, “আমেরিকা ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা স্থগিত করতে চলেছে।” ওয়াশিংটনের দাবি, এই সমস্ত দেশের নাগরিকরা মার্কিন নাগরিকদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা থেকে তাঁদের বঞ্চিত করছেন। যতদিন না মার্কিন নাগরিকদের স্বার্থ ও নিরাপত্তা ১০০ শতাংশ সুনিশ্চিত হচ্ছে, ততদিন এই স্থগিতাদেশ জারি থাকবে।
কারা রয়েছেন এই নিষিদ্ধ তালিকায়? হোয়াইট হাউসের প্রকাশিত তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, নেপাল এবং ভুটানের নাম থাকলেও, আপাতত ভারতের নাম এই তালিকায় দেখা যায়নি। তালিকায় থাকা উল্লেখযোগ্য দেশগুলি হলো— আলজেরিয়া, ব্রাজিল, মিশর, ইরান, ইরাক, রাশিয়া, সিরিয়া, উগান্ডা, উজবেকিস্তান এবং ইয়েমেন সহ মোট ৭৫টি দেশ।
কবে থেকে কার্যকর হচ্ছে এই ফরমান? যদিও সরকারিভাবে কোনো নির্দিষ্ট তারিখের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি, তবে ‘ফক্স নিউজ’-এর একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, আগামী ২১ জানুয়ারি থেকেই এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হতে পারে। অর্থাৎ, ট্রাম্পের শপথ গ্রহণের পরপরই আমেরিকার অভিবাসন নীতিতে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সাক্ষী থাকতে চলেছে বিশ্ব।
এই খবরটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটে জর্জরিত পাকিস্তান এবং অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে থাকা বাংলাদেশের জন্য এটি বড় ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশের মহম্মদ ইউনূস সরকার এবং পাকিস্তানের শেহবাজ শরিফ প্রশাসন চরম অস্বস্তিতে পড়বে। এখন দেখার, আন্তর্জাতিক চাপে ট্রাম্প তাঁর এই সিদ্ধান্তে অটল থাকেন নাকি ভবিষ্যতে কোনো শিথিলতা আনেন।





