২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার মুখে বাংলার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ। শ্রীরামপুরের জনসভা থেকে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে একযোগে আক্রমণ করলেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। রাহুলের দাবি, তৃণমূল এবং বিজেপি আদতে একে অপরের পরিপূরক এবং বাংলায় বিজেপির উত্থানের জন্য মমতাজীই দায়ী।
‘সেটিং’ তত্ত্ব ও ব্যক্তিগত আক্রমণ
রাহুল গান্ধী এদিন সরাসরি অভিযোগ তোলেন যে, কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলো বিরোধীদের ওপর খড়গহস্ত হলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রে তারা নীরব। নিজের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন:
“আমি আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে বলছি, আমি জামিনে ঘুরছি। আমার বাড়ি, সাংসদপদ সব কেড়ে নেওয়া হয়েছে। আমাকে ৫৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। কিন্তু মমতাজীকে কেন মোদীজী কেস দেন না? কেন ওঁর বাড়িতে ED-CBI যায় না? কারণ মমতাজী বিজেপির সঙ্গে সরাসরি লড়াই করেন না।”
দুর্নীতি ও বেকারত্ব নিয়ে তোপ
জাতীয় স্তরে মোদী যেমন পুঁজিপতিদের জন্য কাজ করেন, বাংলায় মমতাও তেমন সিন্ডিকেট আর গুন্ডাদের রাজত্ব চালাচ্ছেন বলে দাবি করেন রাহুল। তাঁর অভিযোগ:
দুর্নীতির খতিয়ান: সারদা ও রোজভ্যালি চিটফান্ড কাণ্ডে হাজার হাজার কোটি টাকা লুঠের অভিযোগ তুলেছেন রাহুল। কয়লা পাচার থেকে ‘গুন্ডা ট্যাক্স’— সব নিয়েই মমতাকে বিঁধেছেন তিনি।
শিল্পের সমাধি: শ্রীরামপুরের হিন্দুস্তান মোটর্স কারখানার প্রসঙ্গ টেনে রাহুল বলেন, বামেরা যা শুরু করেছিল, মমতা তা শেষ করে দিয়েছেন। চাকরি চাইলে এখন তৃণমূলের গুন্ডাদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে হয়।
বেকারত্ব: ২০২১-এ ৫ লক্ষ চাকরির প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে ৮৪ লক্ষ মানুষ বেকারভাতার জন্য আবেদন করেছেন বলে দাবি রাহুলের।
আরজি কর ও নারী নিরাপত্তা
মমতা সরকারের বিরুদ্ধে আরজি কর কাণ্ড নিয়েও ক্ষোভ উগরে দেন রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, একদিকে মোদীর দলের নেতারা মহিলাদের ওপর অত্যাচার করেন, অন্যদিকে বাংলায় আরজি করের মতো ঘটনা ঘটে এবং সরকার দায় নেওয়ার বদলে অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা করে।
রাহুলের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি বাংলায় সঠিকভাবে শাসন করতেন এবং দুর্নীতির বদলে উন্নয়নের পথে হাঁটতেন, তবে বিজেপি আজ এই রাজ্যে জায়গা পেত না। দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে রাহুলের এই ‘আক্রমণাত্মক’ মেজাজ বাম-কংগ্রেস জোটের কর্মীদের মধ্যে নতুন করে অক্সিজেন জোগাবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।





