২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে এখন তপ্ত বাংলার রাজনীতি। আর সেই রাজনীতির এপিসেন্টার বা ভরকেন্দ্র যদি হয় নন্দীগ্রাম, তবে পারদ চড়বে বলাই বাহুল্য। এবার নিজের ‘পুরনো সেনাপতি’র থেকেই কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রামের তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র কর সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতাকে। তাঁর সাফ কথা, “আমার প্রতিপক্ষ হিন্দুত্বের কিছু বোঝে না, আমিই আসল হিন্দু!”
হিন্দুত্ব নিয়ে কেন এই তরজা?
শুভেন্দু অধিকারী বরাবরই নিজেকে ‘সনাতনী’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে নন্দীগ্রামে মেরুকরণের রাজনীতিকে হাতিয়ার করেছেন। কিন্তু এবার তাঁর বিরুদ্ধেই তৃণমূল দাঁড় করিয়েছে এক সময়ের কট্টর হিন্দুত্ববাদী নেতা পবিত্র করকে। বিজেপি ছেড়ে ঘাসফুলে আসা পবিত্রর দাবি:
তিনি সারাজীবন সনাতন ধর্মের আদর্শ মেনে চলেছেন, আর শুভেন্দু কেবল ভোটের স্বার্থে ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেন।
পবিত্রর কটাক্ষ, “হিন্দুত্ব মানে বিদ্বেষ নয়, হিন্দুত্ব মানে সবাইকে আগলে রাখা। শুভেন্দু অধিকারী রাজনীতির স্বার্থে একে বিকৃত করছেন।”
“নন্দীগ্রামে জয় নিশ্চিত”
এদিন প্রচারে বেরিয়ে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী দেখাল পবিত্র করকে। নন্দীগ্রামের অলিগলি যাঁর হাতের তালুর মতো চেনা, সেই পবিত্রর দাবি, এবার আর ‘লোডশেডিং’-এর কারসাজি চলবে না। তিনি বলেন, “নন্দীগ্রামের মানুষ বুঝতে পেরেছে কারা কাজের লোক আর কারা কেবল বড় বড় কথা বলে। আমার জয় নিশ্চিত, কারণ আমি মাটির মানুষের সঙ্গে আছি।”
শুভেন্দুর গড়ে ফাটল?
এক সময় শুভেন্দুর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন এই পবিত্র কর। শুভেন্দুর বহু রাজনৈতিক লড়াইয়ের অন্যতম কারিগর ছিলেন তিনি। আজ সেই পবিত্রই যখন শুভেন্দুর বিরুদ্ধে ‘আসল হিন্দু’ বনাম ‘নকল হিন্দু’র তকমা সেঁটে দিচ্ছেন, তখন অস্বস্তি বাড়ছে পদ্ম শিবিরে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নন্দীগ্রামে হিন্দু ভোটের ওপর শুভেন্দুর যে একচেটিয়া আধিপত্য ছিল, পবিত্র কর প্রার্থী হওয়ায় তাতে বড়সড় থাবা বসাতে পারে তৃণমূল। এখন দেখার, নন্দীগ্রামের ‘ভূমিপুত্র’ লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসেন—বিদায়ী বিধায়ক নাকি তাঁরই প্রাক্তন সহযোদ্ধা।





