‘আমাকে হেনস্থা করা হচ্ছে!’-ভ্যান আটকে ২০জন কে বাঁচানো ভাইরাল রিয়ার বিস্ফোরক অভিযোগ

দিল্লির যন্তর মন্তরে সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলন এবং তার জেরে তৈরি হওয়া তীব্র রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক উত্তেজনার মধ্যেই এক বিশেষ সাংবাদিক বৈঠকে বসলেন লোকসভায় বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। বুধবার ১০ জনপথের বাইরে আয়োজিত এই ১৩ মিনিটের অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বৈঠকে রাহুলের পাশেই ক্যামেরার সামনে মুখ খুললেন সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ, মুম্বইয়ের ভাইরাল তরুণী রিয়া অহেরি এবং আরও বেশ কয়েকজন প্রতিবাদী পড়ুয়া।
রিয়া অহেরির বিস্ফোরক অভিযোগ
কিছুদিন আগে মুম্বইয়ে পুলিশের প্রিজন ভ্যানের সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে আটক পড়ুয়াদের মুক্ত করার ঘটনায় রাতারাতি খবরের শিরোনামে এসেছিলেন রিয়া অহেরি। এদিনের বৈঠকে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, “আমিই মুম্বাই পুলিশের ভ্যানটি থামিয়ে তার সামনে দাঁড়িয়েছিলাম। আমিই সেই মেয়ে যে ২০টি শিশুকে অবৈধভাবে আটক হওয়া থেকে রক্ষা করেছিলাম। আর সেই কারণেই আজ আমাকে লাগাতার হেনস্থা করা হচ্ছে।” অনলাইন ট্রোলিংকে ‘অপরাধ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে রিয়া অভিযোগ করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে একশ্রেণির মানুষ ও দলীয় কর্মীরা যেভাবে মেয়েদের নিশানা করছে, তাতে স্পষ্ট যে সমাজ তাদের পড়াশোনা করতেও দিচ্ছে না, আবার সম্মান নিয়ে বাঁচতেও দিচ্ছে না। তিনি আক্ষেপের সুরে জানান, গত ২৭ জুলাই পুলিশের কাছে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করা সত্ত্বেও দীর্ঘ দিন পেরিয়ে যাওয়ার পর তিনি এখনও এফআইআর (FIR)-এর কোনো কপি হাতে পাননি।
অন্যান্য আন্দোলনকারীদের ভয়ানক অভিজ্ঞতা
এদিনের বৈঠকে উপস্থিত অন্যান্য রাজ্যের পড়ুয়ারাও পুলিশি নির্যাতন ও দমনপীড়নের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তোলেন:
ঝাড়খণ্ডের ছাত্রী নুতন: অভিযোগ করেন যে, গত ২০ জুলাইয়ের বিক্ষোভ চলাকালীন তাঁর ওপর পেলেট গান ব্যবহার করা হয়েছিল।
উত্তরপ্রদেশের ছাত্রী ফারাহ নাজ: তাঁর অভিযোগ, দিল্লি পুলিশ যন্তর মন্তরের বিক্ষোভের সময় কেবল তাঁর মুসলিম পরিচয়ের জন্য তাঁকে প্রায় তিন ঘণ্টা আটক রেখে অমানবিক নির্যাতন ও জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল।
পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়ালেন রাহুল গান্ধী
ছাত্রছাত্রীদের এই সমস্ত ভয়ানক অভিজ্ঞতার কথা মনোযোগ সহকারে শোনার পর তাদের সাহস ও লড়াইয়ের ভূয়সী প্রশংসা করেন রাহুল গান্ধী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা, সংবিধান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করার জন্যই এই তরুণেরা রাস্তায় নেমে লড়াই করেছে। আন্দোলনকারীদের জোর করে ক্ষমা চাওয়ানোর যে চেষ্টা চলছে, তার তীব্র নিন্দা করে রাহুল বলেন, “তোমাদের কেউ ভুল করোনি, তাই কারও কাছে ক্ষমা চাওয়ারও কোনো প্রশ্ন ওঠে না।” ছাত্রছাত্রীদের হেনস্থা করতে বাড়িতে গুণ্ডা পাঠানোর রাজনীতির তীব্র সমালোচনা করে কংগ্রেস নেতা আশ্বাস দেন যে, সরকারের এই দমনপীড়নের বিরুদ্ধে তিনি এবং তাঁর দল সর্বদা এই সমস্ত সাহসী তরুণ-তরুণীদের পাশেই রয়েছে।