‘আমাকে বাজারে বিক্রি করেছেন মমতা!’ তৃণমূলের বর্তমান দুরবস্থা নিয়ে বিস্ফোরক বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়

তৃণমূল কংগ্রেসের বর্তমান সংকট ও লাগাতার ভাঙন প্রসঙ্গে এবার অত্যন্ত বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। এক বেসরকারি সংবাদমাধ্যমের সাক্ষাৎকারে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন। দলের এই দুর্দিনের জন্য তিনি সরাসরি নেতৃত্বকেই দায়ী করেছেন।

মমতার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণ: বৈশাখী অভিযোগের সুরে বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার সঙ্গে অমানবিক আচরণ করেছেন। শোভন ও আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ককে নিয়ে তিনি যেভাবে রাজনীতি করেছেন, তা লজ্জাজনক। আমাকে ঘরের ভেতর থেকে বের করে এনে কার্যত বাজারে বিক্রি করেছেন তিনি।” মমতার স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। তাঁর মতে, ২০২১ সালের পর তৃণমূলের এই যে পরিণতি, তা কার্যত অনিবার্য ছিল।

ফিরহাদ ও অভিষেককে নিশানা: কলকাতা কর্পোরেশনের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য ফিরহাদ হাকিমকে দুষে বৈশাখী বলেন, “শোভন বাবুকে সরিয়ে ফিরহাদকে মেয়র করা হয়েছিল, কিন্তু কলকাতার কোনো উন্নয়ন হয়নি। কলকাতার মানুষ পেয়েছে শুধু এক ‘টকেটিভ’ মেয়র। ফিরহাদের কোনো যোগ্যতাই নেই।” পাশাপাশি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “দলের পরিবেশ এখন কর্পোরেট হয়ে গেছে। দীর্ঘদিনের পোড়খাওয়া রাজনীতিকরা এখন ছবি তোলার জন্য অপেক্ষা করেন, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।”

শুভেন্দুর প্রশংসা ও অনন্যা প্রসঙ্গ: শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক লড়াইয়ের প্রশংসা করে বৈশাখী বলেন, তিনি মাটি থেকে লড়াই করে উঠে আসা নেতা। তৃণমূলের আই-প্যাক (I-PAC) নির্ভর রাজনীতির ঘোর বিরোধী ছিলেন শোভন ও শুভেন্দু। এ ছাড়া অরূপ-অনন্যা জুটি নিয়েও পুরনো ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। অনন্যার বিরুদ্ধে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে অনুপ্রবেশের অভিযোগ তুলে বৈশাখী বলেন, “অনন্যা বলেছিলেন তাঁকে নাকি মেয়র-মন্ত্রীদের খুশি করতে হয়। প্রশ্ন হলো—খুশি করেই কি কাউন্সিলর হতে হয়?”

শোভনের অবস্থান নিয়ে ব্যাখ্যা: তৃণমূলের এই দুঃসময়েও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে বৈশাখী জানান, তিনি শোভনকে বাধা দেননি। মমতা দূরে সরিয়ে দিলেও, শোভন আজও তাঁকে পরিবারের একজন মনে করেন এবং শ্রদ্ধা করেন।

বৈশাখীর দাবি, ১৫ বছরের শাসনে তৃণমূলের ভেতর যে রাজনৈতিক কঙ্কাল তৈরি হয়েছিল, তা আজ প্রকাশ্যে চলে এসেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যারিশ্মা আর অবশিষ্ট নেই বলেই মনে করছেন শোভন-বান্ধবী।