লোকসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ঠিক আগে খাস কলকাতায় দাঁড়িয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী তথা আপ প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল। রবিবার বেলেঘাটায় তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষের সমর্থনে আয়োজিত নির্বাচনী সভায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থেকে শুরু করে ভোটার তালিকা— একাধিক ইস্যুতে মোদী সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানালেন তিনি।
“আপনারা কি জঙ্গি?” বাংলায় বিপুল পরিমাণ আধাসেনা মোতায়েন নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় সরকারকে একহাত নেন কেজরিওয়াল। ভরা জনসভা থেকে তাঁর প্রশ্ন, “সারা দেশ থেকে প্যারামিলিটারি ফোর্স বাংলায় পাঠানো হচ্ছে। আপনারা কি ভারতীয় নন? আপনারা কি জঙ্গি?” তাঁর দাবি, বিপুল কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠিয়ে আসলে বাংলার ভোটারদের মনে ভীতি তৈরি করার চেষ্টা করছে বিজেপি।
ভোটার তালিকা নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ এদিন ভাষণে ভোটার তালিকা নিয়ে বড়সড় আশঙ্কার কথা শুনিয়েছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রায় ২৭ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ভোটারদের সতর্ক করে তিনি বলেন, “তালিকায় নাম না থাকলে আপনাদের ভবিষ্যৎ কী হবে? আপনাদের বিদেশি তকমা দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে, এমনকি সরকারি প্রকল্পের সুবিধাও বন্ধ হয়ে যেতে পারে।” এই পরিস্থিতিতে নাম কাটা যাওয়া ভোটারদের তৃণমূলের পাশে দাঁড়িয়ে ‘মমতার সৈনিক’ হিসেবে লড়াই করার আহ্বান জানান তিনি।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও সরকারি প্রকল্পের ভবিষ্যৎ বিজেপিকে ভোট দিলে রাজ্যের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলো বিপদে পড়বে বলে দাবি করেন আপ সুপ্রিমো। তিনি সাফ জানান, “যদি ভুল করে পদ্মফুলে ভোট দেন, তবে মাসে ১৫০০ টাকা (লক্ষ্মীর ভাণ্ডার) পাওয়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে।” দিল্লিতে তাঁর সরকারের কাজে বিজেপি বাধা দিচ্ছে অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেন, বাংলাতেও গেরুয়া শিবির ক্ষমতা পেলে একই পরিস্থিতি তৈরি হবে।
ইন্ডিয়া জোটের শক্তি প্রদর্শন এদিন শুধু তৃণমূল সমর্থকই নয়, বাম ও কংগ্রেস কর্মীদেরও তৃণমূলকে ভোট দেওয়ার আর্জি জানান কেজরিওয়াল। রাজনৈতিক মহলের মতে, আপ-এর সাত সাংসদ বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর যখন দলে কিছুটা অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তখন কলকাতায় এসে মমতার হয়ে সওয়াল করে আসলে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের ঐক্যই প্রমাণ করতে চাইলেন তিনি।
উল্লেখ্য, আগামী ২৯ এপ্রিল রাজ্যে দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ। এই দফার মহারণ শেষ হওয়ার পর আগামী ৪ মে জানা যাবে বাংলার রায়।





