আন্দোলনকারীদের তাণ্ডবে টালমাটাল নেপাল, নেতার খোঁজে ‘জেন জি’ প্রজন্ম!

ভয়াবহ জেন জি বিক্ষোভের মুখে টালমাটাল নেপাল। পার্লামেন্ট ভবন, মন্ত্রীদের বাড়িসহ বহু সরকারি প্রতিষ্ঠানে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। পালিয়েছেন মন্ত্রীরা, এমনকি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী প্রচণ্ডও। সেনাবাহিনী এখন আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথ কী হবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা।
নেপালে এই বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়েছে দুর্নীতি এবং সোশ্যাল মিডিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে। পরিস্থিতি এতটাই অগ্নিগর্ভ যে কাঠমান্ডুতে সেনা টহল শুরু হয়েছে এবং বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে সেনা প্রহরা বসানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি পদত্যাগ করার পর বিক্ষোভের শিকার হয়েছেন। জানা গিয়েছে, সেনাবাহিনী তাকে এবং আরও বেশ কিছু মন্ত্রীকে নিরাপদ আশ্রয়ে রেখেছে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী প্রচণ্ডও সম্ভবত তাদের সঙ্গেই আছেন। তবে, জেন জি আন্দোলনকারীদের একাংশের অভিযোগ, সেনাবাহিনী শান্তি প্রতিষ্ঠার নামে আসলে রাজনৈতিক নেতাদের আশ্রয় দিচ্ছে।
নেপালের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে চলছে জোর জল্পনা। জেন জি আন্দোলনকারীরা বর্তমান রাজনৈতিক পরিকাঠামো ভেঙে সম্পূর্ণ নতুন একটি ব্যবস্থা চান। কিন্তু এই নতুন ব্যবস্থা কেমন হবে, তা নিয়ে আন্দোলনকারীদের মধ্যেই মতপার্থক্য রয়েছে।
তবে, একটি রাজনৈতিক থিংকট্যাংকের মতে, এই আন্দোলনকারীদের পছন্দের নেতা হলেন কাঠমান্ডুর বর্তমান মেয়র বলেন্দ্র শাহ। তিনি নির্দল প্রার্থী হিসেবে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছিলেন এবং জনগণের মধ্যে তাঁর জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। যদিও তিনি শান্তিপূর্ণ আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন, তবে তিনিই পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হবেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
এদিকে, কেবল কাঠমান্ডু নয়, পোখরাসহ নেপালের আরও বেশ কিছু শহরে এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। দেশের এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।