আদালত অবমাননার মামলায় বড় অস্বস্তি, অভিষেক-মমতাকে তলব কলকাতা হাইকোর্টের

রাজ্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একুশে জুলাই শহীদ দিবস পালনকে কেন্দ্র করে উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। একদিকে যখন ২১ জুলাইয়ের সভা আয়োজন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তুঙ্গে, ঠিক সেই সময়েই তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের কড়া নির্দেশ রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গত বছরের শহীদ দিবস পালনকে ঘিরে আদালতের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকে হলফনামা তলব করল কলকাতা হাইকোর্ট।

কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিচারপতি অপূর্ব সিনহা রায়ের ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছে। মামলার মূল অভিযোগ, ২০২৫ সালের ২১ জুলাই হাইকোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও ধর্মতলায় রাস্তা আটকে শহীদ দিবসের জনসভা আয়োজন করা হয়েছিল। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করেছেন অক্ষয়কুমার সারেঙ্গি নামে এক ব্যক্তি। দীর্ঘ টালবাহানার পর শুক্রবার এই মামলার শুনানিতে আদালত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে চার সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা দিয়ে নিজেদের বক্তব্য জানানোর নির্দেশ দেয়।

আদালত কক্ষে এদিন সওয়াল-জবাবের সময় আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান যে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে সওয়াল করতে চান। আদালত তখন জানতে চায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে কে প্রতিনিধিত্ব করবেন? তবে এদিন অভিষেকের তরফে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। শেষ পর্যন্ত ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে মমতা ও অভিষেক দুজনেই হলফনামা দেবেন। এর পরবর্তী দু’সপ্তাহের মধ্যে মামলাকারী নিজের বক্তব্য হলফনামার মাধ্যমে জমা দেবেন। মামলার পরবর্তী শুনানি ১৭ অগস্ট নির্ধারিত হয়েছে।

মামলাকারীর আইনজীবী শ্রীকান্ত দত্ত আদালতের সামনে অতীতের একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি জানান, ২০১৫ সালে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল। ২০১৮ সালে কলকাতা হাইকোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য ও বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছিল যে, কোনো সরকারি জায়গা বা রাস্তা বন্ধ করে জনসভা কিংবা মিছিল করা যাবে না। কিন্তু সেই নির্দেশকে উপেক্ষা করেই প্রতি বছর ২১ জুলাই ধর্মতলায় শহীদ দিবসের সভা অনুষ্ঠিত হয় বলে অভিযোগ করেন আইনজীবী।

এর আগে গত ১৯ জুন মামলার শুনানিতে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করার নির্দেশ দিয়েছিল। সেই ধারায় এবার স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের হলফনামা তলব করে আদালত কার্যত চাপে ফেলে দিল তৃণমূল নেতৃত্বকে। পুলিশের অনুমতি পাওয়া না পাওয়ার দোলাচলের মাঝেই হাইকোর্টের এই নির্দেশ শহীদ দিবস পালনের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ। এখন ১৭ অগস্টের শুনানির দিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল।