আত্মহত্যা নাকি গভীর ষড়যন্ত্র? বৃন্দাবনের আশ্রমে সাধকের অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে ঘনাচ্ছে রহস্য

প্রেমানন্দ মহারাজের শিষ্যের রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তাল উত্তরপ্রদেশের বৃন্দাবন। বৃন্দাবনের রাধা কেলি কুঞ্জ আশ্রমের সাধক রসিক দুলারি শরণের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান এটি আত্মহত্যার ঘটনা হলেও, মৃতের পরিবারের একের পর এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ এবং শরীরের বিভিন্ন গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ঘিরে গোটা ঘটনাটি নিয়ে রহস্য দানা বাঁধছে।

মৃত রসিক দুলারি শরণের আসল নাম দীপক লোধী। তিনি মধ্যপ্রদেশের জবলপুরের বাসিন্দা ছিলেন এবং গত ২০২৪ সাল থেকে বৃন্দাবনে বসবাস করছিলেন। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনি আধ্যাত্মিক দীক্ষা নিয়ে প্রেমানন্দ মহারাজের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছিলেন।

পরিবারের বিস্ফোরক অভিযোগ

মৃত দীপকের শ্যালক সোনু প্যাটেলের দাবি, গুরুদীক্ষা নেওয়ার পর থেকেই পরিবারের সঙ্গে দীপকের যোগাযোগ অনেকটাই কমে গিয়েছিল। পরিবারের লোকজন একাধিকবার বৃন্দাবনে গিয়ে দীপকের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করলেও আশ্রমে গেলে তাঁদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে বলা হতো। পরিবারের দাবি, মৃত্যুর ঠিক আগে তাঁরা টানা তিন দিন আশ্রমে গিয়েও দীপকের দেখা পাননি।

এরপর দীপকের মৃত্যুর খবর পেয়ে যখন পরিবারের লোকজন বৃন্দাবনে পৌঁছন, তখন রাত প্রায় ৩টে বেজে গিয়েছিল। তাঁদের দাবি, সকালে প্রায় ৯টা পর্যন্ত দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করানো হলেও দীপকের বিষয়ে তাঁদের কোনো স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি।

কীভাবে মৃত্যু হলো?

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ঘটনাটি বৃন্দাবনের কোতয়ালি এলাকার গুরু কৃপা কুঞ্জের সঙ্গে যুক্ত। পরিবারের কাছে আসা তথ্য অনুযায়ী, গত রবিবার সকাল প্রায় সাড়ে ১০টা নাগাদ দীপক আশ্রমের চারতলা থেকে পড়ে যান। গুরুতর আহত অবস্থায় আশ্রমের কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে সর্বোদয় হাসপাতালে নিয়ে যান। তাঁর মাথা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে গভীর চোট ছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরবর্তী সময়ে হাসপাতালের মাধ্যমেই পুলিশ গোটা বিষয়টি জানতে পারে।

আত্মহত্যা নাকি অন্য কিছু?

পুলিশের প্রাথমিক অনুমান এটি আত্মহত্যার ঘটনা হতে পারে। তবে ঘটনার আকস্মিকতা ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ঘটনাস্থল এবং হাসপাতাল চত্বরের সমস্ত ঘটনাক্রম পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর পাশাপাশি ফরেন্সিক দলও ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর আসল কারণ এবং শরীরে থাকা আঘাতের প্রকৃতি স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে পরিবারের দাবি, দীপককে দেখে কখনই মনে হয়নি তিনি আত্মহত্যা করতে পারেন। তিনি মানসিকভাবে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ছিলেন। পরিবারের আরও দাবি, মৃত্যুর আগে দীপক কিছু মানুষের কাছে এমন কিছু ইঙ্গিত করেছিলেন যাতে বোঝা গিয়েছিল তাঁর সঙ্গে কোনো গুরুতর সমস্যা চলছে। বিশেষ করে দীপকের শরীরের কয়েকটি আঘাত, এমনকি গোপনাঙ্গের কাছেও আঘাতের চিহ্ন থাকার খবরে পরিবার নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

আশ্রমের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, দীপক দীক্ষা নেওয়ার পর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরও আশ্রমের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেউ তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে বা সমবেদনা জানাতে আসেননি। যদিও এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে আশ্রমের তরফ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বা সরকারি বক্তব্য সামনে আসেনি। সবমিলিয়ে, দীপকের এই রহস্যমৃত্যুর নেপথ্যে প্রকৃত সত্য কী, তা জানতে নিরপেক্ষ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের দাবি জানিয়েছে শোকস্তব্ধ পরিবার।