“মৎস্য রফতানিতে ২০,০০০ কোটির বিরাট লক্ষ্য!”-বাংলায় বিশাল বিপ্লব আনতে বড় ঘোষণা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর

রাজ্যে নতুন সরকারের পথচলার পর থেকেই শিল্প ও ব্যবসার খরা কাটিয়ে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে একের পর এক বড় ঘোষণা সামনে আসছে। এবার বাংলার মুকুটে নতুন এক ভারী সাফল্যের পালক যোগ হতে চলেছে। রাজ্যের মৎস্য রফতানিতে আকাশছোঁয়া সম্ভাবনার কথা প্রকাশ্যে আনলেন কেন্দ্রীয় মৎস্য, পশুপালন ও দুগ্ধজাত শিল্প বিষয়ক মন্ত্রী রাজীব রঞ্জন সিং। বাংলার মৎস্য রফতানিকে আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছে দিতে এবং এর পরিধি বহুগুণ বাড়াতে একাধিক সুদূরপ্রসারী উদ্যোগ নেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন তিনি।
২০ হাজার কোটির বিশাল রফতানি লক্ষ্যমাত্রা
সম্প্রতি এক সরকারি সফরে রাজ্যে এসেছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজীব রঞ্জন সিং। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের রিভিউ মিটিংয়ে অংশ নিয়ে তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন যে, পশ্চিমবঙ্গজুড়ে মৎস্য খাতে যে বিপুল সম্ভাবনা লুকিয়ে রয়েছে, তাকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হবে। আধুনিক মৎস্য চাষের সম্প্রসারণ এবং উন্নত পরিকাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে রাজ্যের বর্তমান মৎস্য রফতানিকে ৫,০০০ কোটি টাকা থেকে একলাফে বাড়িয়ে ১৫,০০০ থেকে ২০,০০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা সম্পূর্ণ সম্ভব বলেই মত প্রকাশ করেছেন তিনি।
উল্লেখ্য, বর্তমান পরিসংখ্যান অনুযায়ী রাজ্যে ইতিমধ্যেই প্রায় ২৫.৪৩ লক্ষ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদিত হয়েছে। ২০২৫-২৬ আর্থিক বছরেই এই রেকর্ড পরিমাণ মাছ উৎপাদন করে বাংলা সারা দেশের মধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশের ঠিক পরেই দ্বিতীয় স্থান দখল করে রয়েছে। মাছের পোনা উৎপাদনেও শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে বাংলা। অথচ এই বিপুল উৎপাদনের তুলনায় বর্তমান রফতানির পরিমাণ যথেষ্ট কম ছিল, যা এবার বদলাতে চলেছে।
কী কী মেগা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে?
মৎস্য রফতানির পরিধি বহুগুণ বাড়িয়ে তুলতে ইতিমধ্যেই কেন্দ্র সরকার বাংলায় ৬টি অত্যাধুনিক ‘অমৃত সরোবর’ তৈরির অনুমোদন দিয়েছে। বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া জেলায় মোট ৮৩২.৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে এই ৬টি জলাধার বা অমৃত সরোবর তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের মোট খরচের একটি বড় অংশ, অর্থাৎ ৪৯৯.৫০ লক্ষ টাকা অনুদান হিসেবে দিচ্ছে খোদ কেন্দ্রীয় সরকার।
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের ২৪ এপ্রিল চালু হওয়া এই ‘অমৃত সরোবর মিশন’-এর মূল লক্ষ্য হলো প্রতিটি জলাধারের ন্যূনতম জল ধারণ ক্ষমতা কমপক্ষে ১০,০০০ স্কোয়ার মিটার রাখা। এই জলাশয়গুলি থেকে একদিকে যেমন সেচ কাজ ও মৎস্য চাষের সুবিধা মিলবে, তেমনই অন্যদিকে হাঁস পালন এবং জল পর্যটনের মতো লাভজনক অর্থনৈতিক সুযোগও তৈরি হবে।
শুধু বাঁকুড়া বা পুরুলিয়াই নয়, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং উপকূলবর্তী সুন্দরবনের বিশাল মৎস্য সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে কেন্দ্রের সঙ্গে হাত মিলিয়ে একযোগে কাজ করবে রাজ্য সরকার—এমনটাই জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ অর্থবরাদ্দ
রাজ্যের মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ উন্নয়ন বিভাগের (স্বতন্ত্র দায়িত্বপ্রাপ্ত) প্রতিমন্ত্রী রাজেশ মাহাত জানিয়েছেন, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ২৫.৪৩ লক্ষ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদন করে বাংলা দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মৎস্য উৎপাদনকারী রাজ্য হিসেবে নিজের অবস্থান শক্ত রেখেছে। তবে উৎপাদনের এই ধারা বজায় রাখতে উন্নত মানের বীজ, মানসম্মত পশুখাদ্য এবং বিজ্ঞানভিত্তিক খামার ব্যবস্থাপনার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।
পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রী মৎস্য संपদা যোজনা (PMMSY)-র আওতায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের জন্য ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় অংশ থেকে ১০২.২৩ কোটি টাকা এবং রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ৬৬.৪৮ কোটি টাকা সুনির্দিষ্টভাবে বরাদ্দ করা হয়েছে। সবমিলিয়ে, বাংলার মৎস্য শিল্প যে আগামী দিনে দেশের অর্থনীতিতে এক নতুন বিপ্লব ঘটাতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।