আটা দিয়ে খেলা থেকে মিনিয়েচার মূর্তির শিল্পী, বিশ্বমঞ্চে বাংলার ঐতিহ্যকে পৌঁছে দিচ্ছেন শান্তিপুরের যুবক!

নদীয়ার শান্তিপুরের এক তাঁতির ঘরের ছেলে, যিনি ছেলেবেলায় মায়ের মাখা আটা দিয়ে জীবজন্তু গড়তেন, আজ সেই তিনিই একজন প্রতিষ্ঠিত শিল্পী। সামন্ত হাজরা নামের ২৭ বছর বয়সী এই যুবক তার তৈরি মিনিয়েচার মূর্তি দিয়ে শুধু জেলা বা রাজ্যেই নয়, আন্তর্জাতিক স্তরেও বাংলার শিল্পকে তুলে ধরছেন। তার হাতের ছোঁয়ায় তৈরি মূর্তি এখন বিদেশেও পাড়ি দিচ্ছে।
পারিবারিক সংকট ও শিল্পের প্রতি টান
মাত্র ১২ বছর আগে বাবাকে হারিয়েছেন সামন্ত। অসুস্থ মা এবং ভাইকে নিয়ে সংসারের সমস্ত দায়িত্ব এখন তার কাঁধে। দুটি পাওয়ার লুম থেকে কিছুটা আয় হলেও, ছোটবেলা থেকেই শিল্পের প্রতি তার গভীর ভালোবাসা তাকে এই অনন্য পথে নিয়ে এসেছে। শখের বশে শুরু হলেও এখন মিনিয়েচার মূর্তি তৈরিই তার পেশা ও পরিচিতি।
হাতে গড়া সূক্ষ্ম শিল্প
সামন্ত তার মূর্তিগুলো সম্পূর্ণ হাতে তৈরি করেন, কোনো ছাঁচ ব্যবহার করেন না। তিনি কেবল সলিড মাটির ওপর নির্ভর করে তার সূক্ষ্ম কারুকার্য ফুটিয়ে তোলেন। প্রতিটি মূর্তি তৈরিতে অনেক সময় লাগে, কারণ নিখুঁতভাবে প্রতিটি ডিটেলস তৈরি করতে হয়। তবে, তুলনামূলকভাবে কম দামের কারণে বড় মূর্তির তুলনায় তার মিনিয়েচার মূর্তির চাহিদা অনেক বেশি।
এই বছর তার হাতে তৈরি একটি দুর্গা মূর্তি যাচ্ছে চন্দননগরে, যার কাজ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলছে।
বিশ্বমঞ্চে বাংলার শিল্প
সামন্তের তৈরি মূর্তির চাহিদা এখন দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। দেশের বিভিন্ন শহর যেমন কলকাতা, দুর্গাপুরে তার শিল্পকর্ম সাদরে গৃহীত হয়েছে। সম্প্রতি, তার হাতে তৈরি একটি লক্ষ্মী মূর্তি পাঠানো হয়েছে আমেরিকায়। এই বছরের দুর্গাপূজায় দুবাইয়ে পূজিত হবে তার তৈরি একটি সম্পূর্ণ দুর্গা পরিবার।
অর্ডার অনুযায়ী যেকোনো দেবদেবীর মূর্তি তৈরি করে দেন সামন্ত। গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী সূক্ষ্ম কাজ করে তিনি প্রতিটি শিল্পকর্মকে অনন্য রূপ দেন। আর্থিক টানাপোড়েন এবং পারিবারিক চাপ সত্ত্বেও, সামন্ত হাজরার একাগ্রতা ও নিষ্ঠা তাকে একজন সফল শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তার এই সাধনা প্রমাণ করে যে সীমিত সম্পদেও অধ্যবসায় ও প্রতিভার মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে বাংলার শিল্পকে তুলে ধরা সম্ভব।