আকাশ থেকে সমুদ্র—সবক্ষেত্রেই অপ্রতিরোধ্য ভারত! সামরিক সাফল্যের জয়গানে মোদি

আত্মনির্ভর ভারতের স্বপ্নপূরণে জুন মাসটি যেন মাইলফলক হয়ে রইল। দেশের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যে অভাবনীয় সাফল্য এই মাসে ভারত অর্জন করেছে, তা প্রতিটি নাগরিকের বুক গর্বে ভরিয়ে দেওয়ার মতো। রবিবার ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশের এই অনন্য সামরিক সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট করেন, সমুদ্র থেকে আকাশ—সবক্ষেত্রেই ভারত আজ ক্রমশ আরও বেশি সুরক্ষিত এবং স্বনির্ভর হয়ে উঠছে।
প্রধানমন্ত্রী মোদি তাঁর জুন মাসের ‘মন কি বাত’-এর বক্তব্যে বলেন, “২০২৬ সালের প্রথমার্ধ শেষ হলো। গত ছয় মাস ধরে আমরা দেশবাসীর বহু সাফল্যের কথা আলোচনা করেছি। জুন মাসে দেশ এমন কিছু অর্জন করেছে, যা প্রতিটি ভারতবাসীর জন্য অত্যন্ত গর্বের।” তাঁর বক্তব্যের অন্যতম বড় আকর্ষণ ছিল দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি সামরিক সরঞ্জাম এবং তার সফল পরীক্ষা।
প্রধানমন্ত্রী বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করেন কলকাতায় আয়োজিত ভারতীয় নৌবাহিনীর সেই বিশেষ অনুষ্ঠানের কথা, যেখানে আইএনএস দুনাগিরি, আইএনএস সংশোধক এবং আইএনএস অগ্রয়-এর মতো তিনটি রণতরীকে নৌসেনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই যুদ্ধজাহাজগুলোর নকশা থেকে শুরু করে নির্মাণ—পুরোটাই হয়েছে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে। এটি শুধু সামরিক শক্তির বৃদ্ধিই নয়, বরং ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের এক বড় জয়।
সামরিক বিমান পরিষেবার ক্ষেত্রেও জুন মাসে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক ছুঁয়েছে ভারত। সি-২৯৫ (C-295) সামরিক পরিবহণ বিমানটির সফল উড্ডয়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, “এটি সম্পূর্ণ ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’। ভারতে এমন ৪০টি বিমান তৈরি হচ্ছে, যা ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (MSME) এবং মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে নতুন গতির সঞ্চার করবে। এটি শুধুমাত্র কর্মসংস্থানই বৃদ্ধি করবে না, বরং ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর সংকল্পকে আরও সুদৃঢ় করবে।”
ডিআরডিও (DRDO)-র সাম্প্রতিক সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। ১৫ জুন ওড়িশার ড. এপিজে আব্দুল কালাম দ্বীপ থেকে ডিআরডিও-র তৈরি ‘লং-রেঞ্জ ল্যান্ড-অ্যাটাক ক্রুজ মিসাইল’ (LRLACM)-এর সফল পরীক্ষার কথা স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন, “এটি ডিআরডিও এবং আমাদের শিল্প-অংশীদারদের যৌথ প্রচেষ্টার ফল।” প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে মনে করিয়ে দেন, প্রযুক্তি ও গবেষণার এই মেলবন্ধন ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। আজ ভারত কেবল নিজেদের সুরক্ষাতেই নয়, বরং বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা মঞ্চেও নিজেদের সক্ষমতার স্বাক্ষর রাখছে।