আকাশে ‘রক্তের চাঁদ’! পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের বিরল সাক্ষী হল কলকাতা

রবিবার রাতে এক বিরল মহাজাগতিক দৃশ্যের সাক্ষী হলো কলকাতা সহ গোটা দেশ। রাত ৯টা বাজতেই চাঁদ ধীরে ধীরে পৃথিবীর ছায়ায় ঢেকে যেতে শুরু করে, যা পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ এবং ‘ব্লাড মুন’-এর জন্ম দেয়। প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা ধরে চলা এই মহাজাগতিক ঘটনাটি খালি চোখে দেখা যায়।
রাত ৮টা ৫৮ মিনিটে শুরু হওয়া এই চন্দ্রগ্রহণ চলে রাত ২টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত। এর মধ্যে প্রায় ৮২ মিনিট (১ ঘণ্টা ২২ মিনিট) ধরে চাঁদ পুরোপুরি পৃথিবীর ছায়ার নিচে থাকে এবং রক্তবর্ণ ধারণ করে, যাকে ‘ব্লাড মুন’ বলা হয়।
এমপি বিড়লা প্ল্যানেটেরিয়ামের প্রাক্তন পরিচালক এবং বিখ্যাত মহাকাশবিজ্ঞানী দেবীপ্রসাদ দুয়ারি জানান, রাত ৯টা ৫৭ নাগাদ চাঁদ আংশিক গ্রহণের পর্যায়ে পৌঁছায় এবং রাত ১১টায় পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ শুরু হয়। এই সময় চাঁদ সম্পূর্ণরূপে পৃথিবীর উপচ্ছায়া অঞ্চলে প্রবেশ করে। রাত ১২টা ২২ মিনিটের পর ধীরে ধীরে আংশিক গ্রহণ কমতে থাকে এবং রাত ১টা ২৬ নাগাদ চাঁদ আবারও তার পূর্ণিমার আলোয় উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।
এই চন্দ্রগ্রহণ ভারত, এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং আফ্রিকা থেকে স্পষ্টভাবে দেখা গিয়েছে। কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় মানুষ বাড়ির ছাদ থেকে, মাঠ থেকে কিংবা টেলিস্কোপের সাহায্যে এই বিরল দৃশ্য উপভোগ করেন। বিড়লা ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড টেকনোলজিক্যাল মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ তরুণ শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বিশেষ প্রদর্শনীরও আয়োজন করে।
চন্দ্রগ্রহণের মূল কারণ হলো চাঁদ, পৃথিবী এবং সূর্য যখন একটি নিখুঁত সরলরেখায় আসে, তখন পৃথিবীর ছায়া চাঁদের ওপর পড়ে। চাঁদের নিজস্ব কোনো আলো নেই, তাই সূর্যের আলো থেকে বঞ্চিত হওয়ায় তা সাময়িকভাবে অনুজ্জ্বল হয়ে যায়। দেবীপ্রসাদ দুয়ারি আরও জানান, আগামীতে ভারত থেকে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৮ সালে।