টানা বৃষ্টিতে নিউ ফরাক্কা স্টেশনে বিরাট ধস! আটকে গেল দার্জিলিং মেল সহ ডজনখানেক দূরপাল্লার ট্রেন!

দক্ষিণবঙ্গ থেকে উত্তরবঙ্গ সংযোগকারী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নিউ ফরাক্কা স্টেশনের কাছে রেললাইনে আচমকা ভয়াবহ ধস নামার ফলে দেশজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। গত কয়েকদিনের টানা ও প্রবল বৃষ্টির জেরে মাটি নরম হয়ে সরে যাওয়ায় বৃহস্পতিবার ভোরে ফরাক্কা স্টেশনে ঢোকার মুখে আপ লাইনের একটি অংশ হঠাৎ করেই বসে যায়। এই আকস্মিক বিপর্যয়ের ফলে একদিকে যেমন যাত্রী সুরক্ষা নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তেমনই উত্তরবঙ্গগামী বহু দূরপাল্লার গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে মাঝপথেই আটকে পড়ে চরম বিপাকে পড়েছেন হাজার হাজার রেলযাত্রী।

রেল সূত্রে প্রাপ্ত খবরে জানা গিয়েছে, এই ধসের জেরে যোগবানি এক্সপ্রেস, গৌড় এক্সপ্রেস এবং ঐতিহ্যবাহী দার্জিলিং মেল-সহ একাধিক সুপারফাস্ট ও এক্সপ্রেস ট্রেন দীর্ঘক্ষণ ধরে বিভিন্ন স্টেশনে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। ট্রেনগুলি নির্দিষ্ট সময়ের অনেক পরে গন্তব্যে পৌঁছবে বলে রেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। আকস্মিক এই রেল দুর্ঘটনার জেরে এদিন দিনভর রেল পরিষেবা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন রেলের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। তবে চরম প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে দ্রুত তৎপরতা শুরু করেছে রেল কর্তৃপক্ষ।

ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান রেলের অভিজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ারিং টিম এবং কর্মীরা। ক্ষতিগ্রস্ত আপ লাইনে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয়েছে জোরকদমে মেরামতির কাজ। একদিকে যেমন ক্ষতিগ্রস্ত লাইন ঠিক করার কাজ চলছে, তেমনই বিকল্প সিঙ্গেল লাইন ব্যবহার করে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ধীরগতিতে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চালাচ্ছে রেল প্রশাসন। ফরাক্কার এক রেল আধিকারিক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য সমস্ত রকমের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি, আটকে থাকা ট্রেনগুলির যাত্রীদের যাতে পানীয় জল এবং খাবারের মতো জরুরি জিনিস পেতে কোনো রকম অসুবিধা না হয়, সেদিকেও কড়া নজর রাখা হচ্ছে। রেল প্রশাসনের পক্ষ থেকে যাত্রীদের সম্পূর্ণ সতর্ক থাকার এবং পরবর্তী নির্দেশিকা মেনে চলার বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে।