আইন করে কি ভক্তি কেনা যায়? ‘বন্দে মাতরম’ বিলে রাষ্ট্রপতির সই হতেই কেন্দ্রকে চরম কটাক্ষ শশী থারুরের!

দেশের জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’-কে অসম্মান করলে তা এখন থেকে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। সংসদের বাদল অধিবেশনে জুলাই মাসের শেষে দুই কক্ষে পাশ হওয়ার পর, মঙ্গলবার এই ‘জাতীয় সম্মান অবমাননা প্রতিরোধ (সংশোধনী) বিল, 2026’-এ স্বাক্ষর করলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। ফলে ‘দ্য প্রিভেনশন অফ ইনসাল্টস টু ন্যাশনাল হনার (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, 2026’ আনুষ্ঠানিকভাবে আইনে পরিণত হলো।

নতুন এই আইন অনুযায়ী, ‘বন্দে মাতরম’-কে জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’-এর মতোই সমমর্যাদা দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে জাতীয় গান গাওয়া আটকে দেওয়া বা তা গাওয়ার সময় কোনও ব্যাঘাত ঘটানো আইনত অপরাধ। এই অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এমনকি দ্বিতীয়বার বা পরবর্তী প্রতিবার দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ক্ষেত্রে ন্যূনতম এক বছরের জেলের মেয়াদ নির্ধারিত হয়েছে।

তবে এই আইন কার্যকরের পরেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। ‘বন্দে মাতরম’ গানের সম্পূর্ণ ছ’টি অনুচ্ছেদ গাওয়া বাধ্যতামূলক করা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন কংগ্রেসের প্রবীণ সাংসদ শশী থারুর। তাঁর মূল প্রশ্ন—এভাবে কি জোর করে মানুষের শ্রদ্ধা ও ধৈর্য প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব?

সোশাল মিডিয়ায় সরব হয়ে তিরুঅনন্তপুরমের চার বারের এই সাংসদ জানান, সংসদে কোনও ধরনের আলোচনা ছাড়াই বিলটি পাশ করিয়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, সাধারণত জাতীয় সঙ্গীতের জন্য ৫২ সেকেন্ড সময় লাগলেও, বন্দে মাতরমের সমস্ত অনুচ্ছেদ গাইতে ৩ মিনিট ১০ সেকেন্ডের প্রয়োজন হয়। এর সঙ্গে জাতীয় সঙ্গীত এবং রাজ্য স্তরের গান যোগ হলে পুরো প্রক্রিয়াটিতে দীর্ঘ সময় ব্যয় হবে, যা সাধারণ মানুষের স্বভাবের পরিপন্থী।

শশী থারুরের প্রশ্ন, প্রতিটি সরকারি অনুষ্ঠান বা সমাবেশের আগে-পরে শ্রোতারা কি একটানা ৬ থেকে ১২ মিনিট ধরে দাঁড়িয়ে এই নিয়ম মেনে চলতে পারবেন? জোর করে আইন চাপিয়ে দিয়ে ভক্তি বা দেশপ্রেম প্রতিষ্ঠা করা যায় কি না, সেই নিয়েই এখন জোর রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে জাতীয় রাজনীতিতে।