আইটিআর জমার আগে সাবধান! সভরিন গোল্ড বন্ডের আয়ের তথ্য গোপন করলেই ধেয়ে আসতে পারে আয়কর নোটিশ

২০২৬-২৭ মূল্যায়ন বর্ষের (২০২৫-২৬ অর্থবর্ষ) জন্য আয়কর রিটার্ন (ITR) দাখিলের মরসুম চলছে। ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের (RBI) সভরিন গোল্ড বন্ড (SGB) প্রকল্পে বিনিয়োগকারী করদাতাদের জন্য এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম হলেও, এসজিবি থেকে প্রাপ্ত আয়ের কর বিধি নিয়ে অনেকেরই সঠিক ধারণা নেই। রিটার্ন দাখিলের সময় অনেক বিনিয়োগকারীই এই আয় উল্লেখ করতে ভুল করে বসেন, যার ফলে পরবর্তী সময়ে আয়কর বিভাগ থেকে কঠোর নোটিশ পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। ডিজিটাল ট্র্যাকিংয়ের যুগে আয়কর বিভাগের কাছে প্রতিটি আর্থিক লেনদেনের তথ্য থাকে, তাই এসজিবি থেকে আয় সঠিকভাবে রিপোর্ট করা বাঞ্ছনীয়।
এসজিবি থেকে অর্জিত আয়কে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়—বার্ষিক সুদ এবং মূলধনী লাভ (Capital Gains)। এই দুই ক্ষেত্রে করের নিয়ম সম্পূর্ণ আলাদা। বিনিয়োগকারীরা এসজিবি-তে বছরে ২.৫ শতাংশ হারে সুদ পান, যা সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়। এই সুদ সম্পূর্ণ করযোগ্য এবং এটিকে আইটিআর ফর্মে ‘অন্যান্য উৎস থেকে আয়’ (Income from Other Sources) শিরোনামের অধীনে দেখাতে হয়। যেহেতু আরবিআই এই সুদের উপর কোনো টিডিএস (TDS) কাটে না, তাই অনেক বিনিয়োগকারী একে অবহেলা করেন। কিন্তু এটি একটি বড় ভুল, কারণ আপনার বার্ষিক তথ্য বিবরণী (AIS)-তে এই সুদের হিসাব নথিভুক্ত থাকে।
মূলধনী লাভের ক্ষেত্রে এসজিবি অত্যন্ত লাভজনক। যদি আপনি বন্ডের সম্পূর্ণ ৮ বছরের মেয়াদকাল পর্যন্ত তা ধরে রাখেন, তবে মেয়াদপূর্তিতে প্রাপ্ত অর্থ সম্পূর্ণ করমুক্ত। এছাড়া, ৫ বছর পর সরাসরি আরবিআই-এর মাধ্যমে মেয়াদপূর্তির পূর্বে টাকা তুলে নিলেও ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীরা কর ছাড় পান। তবে মনে রাখবেন, যদি আপনি ৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে সেকেন্ডারি মার্কেট বা স্টক এক্সচেঞ্জ (NSE/BSE) থেকে বন্ড বিক্রি করেন, তবে সেক্ষেত্রে অর্জিত মুনাফা করমুক্ত হবে না। ধারণকালের ওপর ভিত্তি করে আপনার ওপর স্বল্পমেয়াদী বা দীর্ঘমেয়াদী মূলধনী লাভ কর (STCG বা LTCG) ধার্য হবে।
আইটিআর দাখিল করার সময় করদাতাদের তিনটি সাধারণ ভুল এড়িয়ে চলা উচিত। প্রথমত, এআইএস (AIS) এবং টিআইএস (TIS)-এর সাথে আপনার নিজের হিসাব মিলিয়ে না দেখা। রিটার্ন ফাইল করার আগে অবশ্যই এআইএস ডাউনলোড করে সুদের অংকের সাথে আপনার ব্যাংকের হিসাব মিলিয়ে নিন। দ্বিতীয়ত, স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে বিক্রি করা বন্ডের লাভের কথা গোপন করা। এই লাভ যথাযথভাবে ‘ক্যাপিটাল গেইনস’ শিডিউলে রিপোর্ট করতে হবে। তৃতীয়ত, মেয়াদপূর্তিতে প্রাপ্ত করমুক্ত অর্থ আইটিআর-এর ‘এক্সেম্পট ইনকাম’ শিডিউলে না দেখানো।
২০২৬ সালের বাজেট অনুযায়ী, ২০২৭-২৮ মূল্যায়ন বর্ষ থেকে এসজিবি সংক্রান্ত কর বিধিতে বড় পরিবর্তন আসছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, শুধুমাত্র ‘মূল গ্রাহকরা’ (যারা ইস্যুর সময় বন্ড কিনেছিলেন) মেয়াদপূর্তির কর সুবিধা পাবেন। সেকেন্ডারি মার্কেট থেকে কেনা বন্ডের ক্ষেত্রে এই সুবিধা আর পাওয়া যাবে না। সুতরাং, আইনি জটিলতা এড়াতে সঠিক তথ্য প্রদানই বুদ্ধিমানের কাজ।