আইএসআই-এর ‘মিশন বাংলা’ ভেস্তে দিল ভারত, কলকাতার বুকে লুকিয়ে থাকা পাকিস্তানি চরের বিরাট নেটওয়ার্ক ফাঁস!

ভারতের গোয়েন্দা বিভাগ ও পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) যৌথভাবে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই পরিচালিত একটি গভীর এবং বিপজ্জনক আন্তঃসীমান্ত চরবৃত্তির চক্রের পর্দাফাঁস করেছে। জাল পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ভারতে অনুপ্রবেশ করা এক পাকিস্তানি নাগরিকের গ্রেপ্তারির পরই এই বিশাল নেটওয়ার্কটি ভেঙে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২০ সালে কোভিড মহামারির চরম আবহে এই ছকের সূচনা হয়েছিল। সেই সময় নেপালে আয়োজিত এক বিশাল ধর্মীয় সমাবেশকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে ভারত-নেপাল সীমান্ত দিয়ে চরদের ভারতে ঢোকানোর রূপরেখা তৈরি করেছিল পাকিস্তানি হ্যান্ডলাররা।
তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ধৃত মূল চরের নাম রানা রউফ, যার মূল বাড়ি পাকিস্তানের ফয়সালাবাদে। পাকিস্তানি সেনার মেডিক্যাল পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার পর থেকেই সে আইএসআইয়ের নজরে আসে এবং তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখতে শুরু করে। ‘মিশন বাংলা’ নামের এই গোপন পরিকল্পনার আওতায় সে বিহারের রক্সৌল সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে এবং সোজা কলকাতায় এসে নিরাপদ আশ্রয় নেয়। সেখানে নিজের আসল পরিচয় লুকিয়ে ‘ওহাব আলম’ নামে বসবাস শুরু করে সে। স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যক্তির সহায়তায় রউফ জাল আধার কার্ড, প্যান কার্ড এবং ভোটার কার্ড তৈরি করে ফেলে, যার ফলে সে সম্পূর্ণ নির্বিঘ্নে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে চলাফেরা করার সুযোগ পায়।
কলকাতায় গা ঢাকা দিয়ে থাকার সময় রউফকে দেশের অত্যন্ত সংবেদনশীল প্রতিরক্ষা পরিকাঠামোর গোপন তথ্য সংগ্রহের গুরুদায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। বিশেষ করে পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তে ভারতীয় সেনা ও বিএসএফের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ রেল নেটওয়ার্কের গোপন মানচিত্র তৈরি করাই ছিল তার মূল কাজ। নিরাপত্তা বাহিনীর নজরদারি এড়াতে সে অত্যন্ত সুকৌশলে নেপালে অবস্থানরত পাঁচজন ভিন্ন ভিন্ন পাকিস্তানি হ্যান্ডলারের মাধ্যমে সমস্ত গোপন তথ্য পাকিস্তানে পাচার করত। তবে শেষরক্ষা হয়নি। সম্প্রতি একটি রুটিন নথি যাচাইয়ের সময় তার পরিচয়পত্রে গুরুতর গরমিল ধরা পড়ে। এরপরই নড়েচড়ে বসে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এসটিএফ। বাংলাদেশ হয়ে দেশ ছেড়ে পালানোর শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নেওয়ার সময়ই তাকে পাকড়াও করে নিরাপত্তা বাহিনী। এই ঘটনা দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় বড়সড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।