আইআইটি-তে পিএইচডি করেও বেছে নিলেন শিক্ষকতাকে, এই গবেষকের গল্প গর্বিত করবে আপনাকে!

পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুরের ঝেঁতলা শশীভূষণ হাইস্কুলের রসায়নের শিক্ষক সুদীপ চক্রবর্তী শুধু একজন শিক্ষকই নন, তিনি একজন আন্তর্জাতিক মানের গবেষকও। আইআইটি খড়গপুর থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেও তিনি দেশের বা বিদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা না করে বেছে নিয়েছেন স্কুলের শিক্ষকতাকে। তার এই সিদ্ধান্ত এবং সাম্প্রতিক গবেষণা তাকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এনেছে।
শিক্ষকতা কেন বেছে নিলেন?
২০১১ সালে আইআইটি খড়গপুর থেকে পিএইচডি করার পর সুদীপ চক্রবর্তী তাইওয়ান, সিঙ্গাপুর ও সাউথ কোরিয়ার মতো দেশ থেকে পোস্ট-ডক্টরেট এবং চাকরির অফার পেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি সব প্রস্তাবই প্রত্যাখ্যান করেন। কেন এমন সিদ্ধান্ত নিলেন, এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমার কিছু দেওয়ার থাকলে তা যেন এই বাংলার ছেলেমেয়েরাই পায়। বিশেষ করে ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ তৈরি করা, তাদের সঠিক পরামর্শ দেওয়া এবং মেধার বিকাশে সাহায্য করা আমার লক্ষ্য।” তিনি বিশ্বাস করেন, সব শিক্ষার্থীর মেধা সমান হয় না, তাই স্বল্প মেধার শিক্ষার্থীরাও যাতে জীবনে সফল হতে পারে, সেই চেষ্টা তিনি করে যাচ্ছেন।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও গবেষণা
শিক্ষকতার পাশাপাশি সুদীপ চক্রবর্তী গবেষণা ও বই লেখা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি রসায়ন ও ভৌত বিজ্ঞানের উপর ২০টিরও বেশি বই লিখেছেন, যা সিবিএসই বোর্ডের পাঠ্যসূচিতেও অন্তর্ভুক্ত। সম্প্রতি তার একটি গবেষণাপত্র ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অফ রিসার্চ ইন ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড সায়েন্সে প্রকাশিত হয়েছে।
তার গবেষণার বিষয় ছিল, ইলেক্ট্রোকেমিক্যাল সেন্সিং-ন্যানো পার্টিক্যাল মডিফায়েড ইলেক্ট্রোড অফ ইথানল। এই গবেষণার মূল উদ্দেশ্য হলো, মানবদেহে রক্তের অতি সামান্য পরিমাণ ইথানল বা অ্যালকোহলকে সাধারণ কার্বন টেস্টিং-এর চেয়েও দ্রুত ও সূক্ষ্মভাবে চিহ্নিত করা। এই যুগান্তকারী আবিষ্কারের জন্য তাকে আন্তর্জাতিক সায়েন্স জার্নাল থেকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।
প্রতিকূলতা সত্ত্বেও সাফল্য
একজন স্কুলের শিক্ষক হিসেবে গবেষণা চালিয়ে যাওয়া সুদীপের জন্য সহজ ছিল না। স্কুলের ল্যাবরেটরি সীমিত পরিকাঠামো নিয়েই তিনি নিজের কাজ চালিয়ে গিয়েছেন। এই সাফল্যের জন্য তাকে অসংখ্য প্রশ্ন ও অনুসন্ধান (কোয়্যারি) পূরণ করতে হয়েছে। এই অসাধারণ সাফল্যের জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষ এবং সহকর্মীরা তার প্রতি গর্ব প্রকাশ করেছেন। প্রধান শিক্ষক বিপ্লব পাল এবং স্কুল পরিচালন কমিটির সভাপতি নবীনচন্দ্র জানা তাকে রাজ্যের গর্ব হিসেবে অভিহিত করেছেন। সুদীপ চক্রবর্তী জানিয়েছেন, তিনি খ্যাতি বা অর্থ নিয়ে ভাবেন না, বরং ভবিষ্যতের জন্য আরও গবেষণা করতে চান।