আইআইটি খড়্গপুরের ডাইনিং হলে বসছে ফেস রেকগনিশন ক্যামেরা, কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে বিতর্ক

দেশের অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আইআইটি খড়্গপুরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান আত্মহত্যার প্রবণতা ঠেকাতে এক অভিনব প্রস্তাব সামনে এসেছে। সম্প্রতি, এক বিশেষজ্ঞ কমিটি এমন একটি প্রযুক্তি ব্যবহারের সুপারিশ করেছে, যা দিয়ে পড়ুয়াদের মন খারাপের প্রথম লক্ষণগুলো চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানের ডাইনিং হলগুলোতে বসানো হবে ‘ফেস রেকগনিশন ক্যামেরা’, যা দিয়ে নজর রাখা হবে পড়ুয়াদের গতিবিধির উপর।
গত এক বছরে আইআইটি খড়্গপুরে মোট পাঁচজন ছাত্রছাত্রীর অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে গত সপ্তাহে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র ঋতম মণ্ডলের আত্মহত্যার ঘটনাটি খুবই চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। এই পরিস্থিতিতে গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটি মনে করছে, যেসব পড়ুয়া মানসিক চাপে থাকেন, তারা প্রায়শই নিজেদের ঘরে আটকে রাখেন এবং খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দেন।
এই প্রবণতাকেই একটি ‘রেড ফ্ল্যাগ’ হিসেবে চিহ্নিত করে কমিটি প্রস্তাব দিয়েছে যে, ডাইনিং হলে বসানো বিশেষ ক্যামেরাগুলো কোনো ছাত্র বা ছাত্রী পরপর কয়েকদিন খেতে না এলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কর্তৃপক্ষকে সেই বিষয়ে জানিয়ে দেবে। সেই ডেটা পেয়ে কর্তৃপক্ষ তখন সেই পড়ুয়াদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
কেবল প্রযুক্তিগত সমাধান নয়, বিশেষজ্ঞ কমিটি আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করেছে। বর্তমানে ১৬ হাজার পড়ুয়ার জন্য মাত্র ১৫ জন কাউন্সেলার রয়েছেন। কমিটি জরুরি ভিত্তিতে এই সংখ্যা অন্তত ২০ করার কথা বলেছে, যদিও কর্তৃপক্ষ ২৫ জন কাউন্সেলার নিয়োগ করতে আগ্রহী। এছাড়াও, প্রতিটি হোস্টেলে একজন করে ফুল-টাইম স্টুডেন্টস ম্যানেজার রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। কারণ, এখন হোস্টেলের ওয়ার্ডেনরা শিক্ষকের দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি এই কাজ করেন, যা তাদের পক্ষে সব সময় সম্ভব হয়ে ওঠে না। একজন ফুল-টাইম ম্যানেজার পড়ুয়াদের আরও ভালোভাবে নজর রাখতে পারবেন এবং তাদের কাছে আরও সহজলভ্য হবেন।
যদিও পড়ুয়াদের উপর এই ধরনের নজরদারির নামে যাতে তাদের ব্যক্তিগত পরিসরে হস্তক্ষেপ না হয়, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ সতর্ক। তাদের মতে, অতিরিক্ত নজরদারি হিতে বিপরীত হতে পারে। আইআইটি খড়্গপুরের ডিরেক্টর সুমন চক্রবর্তী জানিয়েছেন, কমিটির এই সমস্ত সুপারিশগুলো লিখিত আকারে জমা পড়লেই দ্রুত তা কার্যকর করা হবে।