রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই প্রশাসনিক সংস্কারে কোমর বেঁধে নেমেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার নবান্নের সভাঘরে রাজ্য পুলিশ এবং প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে একটি হাই-প্রোফাইল বৈঠকে বসেন তিনি। বৈঠকের শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন যে, তাঁর সরকারের মূল এবং একমাত্র লক্ষ্য হলো ‘সুশাসন’ বা ‘গুড গভর্ন্যান্স’ নিশ্চিত করা। সাধারণ মানুষের অভিযোগ শুনতে এবং তা দ্রুত সমাধান করতে বিন্দুমাত্র দেরি সহ্য করা হবে না বলেও কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি।
কড়া বার্তা পুলিশ প্রশাসনে এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশক (DGP) সহ উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী বৈঠকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক রঙ দেখা চলবে না। পুলিশকে আরও বেশি জনমুখী হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, “থানায় এসে সাধারণ মানুষ যেন হেনস্থার শিকার না হন। অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে।”
নিশানায় দুর্নীতি ও লাল ফিতে প্রশাসনিক স্তরে কাজের দীর্ঘসূত্রতা বা ‘লাল ফিতের ফাঁস’ কাটাতে প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, সরকারি পরিষেবাগুলি যেন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সাধারণ মানুষের দুয়ারে পৌঁছায়। বিশেষ করে স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং কর্মসংস্থান সংক্রান্ত ফাইল যেন অহেতুক পড়ে না থাকে, সেদিকে কড়া নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে কড়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
নিরাপত্তা ও শান্তিতে জোর রাজ্যের সীমান্ত পরিস্থিতি এবং শান্তি বজায় রাখতে গোয়েন্দা বিভাগকে আরও সক্রিয় করার কথা বলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর মতে, বিনিয়োগ টানতে এবং রাজ্যের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে হলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা আবশ্যিক। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে মাঝেমধ্যেই সারপ্রাইজ ভিজিট বা আচমকা পরিদর্শনে যাবেন বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
নতুন নবান্নের নতুন কাজের ধরণ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রথম দিন থেকেই মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে সরাসরি প্রশাসনের রাশ ধরছেন, তাতে স্পষ্ট যে তিনি আমলাতন্ত্রে এক বড়সড় পরিবর্তন আনতে চাইছেন। স্রেফ প্রতিশ্রুতি নয়, কাজের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠাই এখন শুভেন্দু অধিকারীর প্রধান চ্যালেঞ্জ। নবান্নের এদিনের বৈঠক থেকে এক নতুন ও গতিশীল প্রশাসনিক ব্যবস্থার ইঙ্গিত পেল গোটা রাজ্য।
প্রশাসনের এই কড়া অবস্থানে কি রাজ্যে দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলা সম্ভব হবে? আপনার মতামত কমেন্টে জানান। খবরের সব লেটেস্ট আপডেট পেতে ফলো করুন DailyHunt।





