‘অসুস্থ হওয়ার সাধ্যও ছিল না আমাদের!’ দারিদ্র্যের সেই দিনগুলো নিয়ে মুখ খুললেন দিলজিৎ দোসাঞ্জ

বিশ্বখ্যাত পপ তারকা ও অভিনেতা দিলজিৎ দোসাঞ্জ আজ সাফল্যের শিখরে। কিন্তু তাঁর আজকের এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে এক দীর্ঘ ও কঠিন সংগ্রামের ইতিহাস। সম্প্রতি এক আন্তর্জাতিক সাক্ষাৎকারে দিলজিৎ তাঁর জীবনের শুরুর দিকের সেই দারিদ্র্য ও কঠোর পরিশ্রমের দিনগুলোর কথা অকপটে শেয়ার করেছেন।
বিয়েবাড়িতে গানই ছিল জীবন: দিলজিৎ জানান, তিনি অত্যন্ত সাধারণ এক পরিবার থেকে উঠে এসেছেন। সেই দিনগুলোর কথা মনে করে তিনি বলেন, “আমাদের আর্থিক পরিস্থিতি এতটাই খারাপ ছিল যে, অসুস্থ হওয়ার মতো বিলাসিতাও আমাদের ছিল না, কারণ ডাক্তারের কাছে যাওয়ার মতো টাকা ছিল না।” ২০০২ সালে প্রথম অ্যালবাম প্রকাশের পর তিনি বুঝতে পারেন যে, সংগীতকে পেশা হিসেবে নিলে টিকে থাকা সম্ভব। এরপর থেকে তিনি আর ফিরে তাকাননি। বিয়েবাড়ি থেকে জন্মদিনের পার্টি—যেকোনো অনুষ্ঠানে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে গান গাওয়ার প্রস্তাব পেলেই তিনি রাজি হয়ে যেতেন। তিনি বলেন, “এরপর আমি কাউকে ‘না’ বলিনি। দিন-রাত এক করে সব জায়গায় অনুষ্ঠান করতাম।”
সফলতার মাঝে বিতর্কের ছায়া: এদিকে, সাফল্যের পাশাপাশি দিলজিৎ বর্তমানে এক বড় বিতর্কের মুখোমুখি। তাঁর সাম্প্রতিক মুক্তিপ্রাপ্ত গান ‘অ্যারোমা’ (Aroma)-র একটি লিরিক নিয়ে তীব্র ক্ষোভ দানা বেঁধেছে। ‘প্রাইড মান্থ’ শুরু হতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছেন নেটপাড়ার একাংশ এবং কন্টেন্ট ক্রিয়েটররা।
কী নিয়ে বিতর্ক? অনেকের মতে, এই গানে পুরুষত্বকে মহিমান্বিত করতে গিয়ে কোয়্যার (Queer) বা সমকামী সম্প্রদায়কে ছোট করা হয়েছে। কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ফেইথ মাইকেল সহ অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন যে, বিনোদন জগতের এই বিশাল প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে দিলজিৎ কীভাবে এমন বার্তা দিতে পারেন। সমালোচকদের দাবি, তিনি যে ইন্ডাস্ট্রির ওপর ভিত্তি করে তারকা হয়েছেন, সেই ইন্ডাস্ট্রির একটি অংশকে নিয়ে এভাবে বিদ্রূপ করা অনুচিত। তবে এই তীব্র সমালোচনার মুখেও দিলজিৎ দোসাঞ্জ এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাননি।