‘অশ্লীল মেসেজ, জোর করে সঙ্গম’, আশ্রম প্রধানের আগাম জামিন খারিজ! তদন্তের স্বার্থে হেফাজতে চায় দিল্লি পুলিশ

৩২ জন ছাত্রীকে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ অশ্লীল মেসেজ এবং লাগাতার হেনস্থার অভিযোগে গ্রেফতারের মুখে স্বঘোষিত গডম্যান স্বামী চৈতন্যনন্দ সরস্বতী। চমক এখানেই শেষ নয়, এই স্বঘোষিত আশ্রম প্রধানের বিরুদ্ধে এবার উঠেছে আর্থিক জালিয়াতির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত বাবা ভুয়ো নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করতেন এবং এফআইআর দায়ের হওয়ার পরই সেই অ্যাকাউন্টগুলি থেকে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লক্ষ টাকা তুলে নেন।
ছাত্রীদের ‘আই লাভ ইউ’ মেসেজ ও যৌন হেনস্থা
দিল্লির শ্রী সারদা ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়ান ম্যানেজমেন্ট-এর প্রধান ৬২ বছর বয়সী পার্থসারথি (স্বামী চৈতন্যনন্দ সরস্বতী)-এর বিরুদ্ধে একাধিক তরুণীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। মূলত আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারের তরুণীরা এই ইনস্টিটিউটে পোস্ট গ্রাজুয়েট কোর্সে ভর্তি হয়েছিলেন।
পুলিশ সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত মোট ৩২ জন তরুণী তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছেন, যার মধ্যে ১৭ জনের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। তরুণীদের অভিযোগ, স্বামী চৈতন্যনন্দ সরস্বতী প্রায়ই রাতে হোয়াটসঅ্যাপে ‘আই লাভ ইউ’ মেসেজ পাঠাতেন। কখনও অশ্লীল ভিডিও বা যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ মেসেজ, আবার কখনও প্রকাশ্যে গালিগালাজ করতেন। শুধু তাই নয়, একাধিকবার তিনি ছাত্রীদের কাছে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হওয়ার জন্য জোরাজুরি করতেন। এক ছাত্রীকে বিদেশ সফরে সঙ্গী হওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন তিনি। এমনকি, এক ছাত্রীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাঁর নাম পরিবর্তনের জন্য জোর করার অভিযোগও উঠেছে।
তরুণীদের অভিযোগ, তাঁরা ইনস্টিটিউটের মহিলা শিক্ষাকর্মীদের কাছে অভিযোগ জানালেও, তাঁরা বরং অভিযুক্তের দাবি মেনে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
ভুয়ো নামে অ্যাকাউন্ট, অর্ধকোটির লেনদেন
ছাত্রীদের হেনস্থার পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগও উঠেছে। তদন্তে জানা গেছে, সরস্বতী দুটি আলাদা ভুয়ো নামে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলেছিলেন এবং অ্যাকাউন্ট খোলার সময় ও লেনদেনের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন নথি ব্যবহার করেছিলেন। পুলিশের দাবি, অভিযোগ দায়েরের পরই তিনি নিজের আসল পরিচয় গোপন করে দ্রুত এই বিশাল অঙ্কের টাকা তুলে নেন।
আদালতে ধাক্কা, পলাতক অভিযুক্ত
শুক্রবার প্রতারণা, জালিয়াতি ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মামলায় অভিযুক্ত স্বামী চৈতন্যনন্দ সরস্বতীর আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দেন দিল্লির অতিরিক্ত সেশন বিচারক হরদীপ কৌর।
শুনানির পর বিচারক স্পষ্ট জানান, “বর্তমানে মামলার তদন্ত প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তদন্তকারী অফিসারের মতে, পুরো প্রতারণা, ষড়যন্ত্র ও অর্থ আত্মসাতের চক্র উন্মোচনের জন্য অভিযুক্তের হেফাজত প্রয়োজন।” বিচারক আরও যোগ করেন, অভিযোগের গুরুত্ব ও অপরাধের গম্ভীরতা বিবেচনা করে আদালত জামিন দিতে নারাজ।
অন্যদিকে, পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত বর্তমানে তাঁর দেওয়া ঠিকানায় অনুপস্থিত এবং তাঁর মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে। ফলস্বরূপ, এই স্বঘোষিত গডম্যানকে খুঁজে বের করতে এবং হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য পুরোদমে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে দিল্লি পুলিশ।