আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের কালো মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। এই যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্ব বাজারে, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের দামে বড়সড় অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ভারতের মতো দেশ, যারা জ্বালানি আমদানির ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল, তাদের জন্য এই সংকট এক অশনি সংকেত। এই কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে এবং দেশবাসীকে সঞ্চয়ের পাঠ দিতে এবার অনন্য নজির গড়লেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর নিজস্ব কনভয়ের গাড়ির সংখ্যা এক ধাক্কায় ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই কৃচ্ছ্রসাধনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও তাঁর কনভয়ের আকার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে এনেছেন। সূত্রের খবর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কনভয় এখন আগের তুলনায় অর্ধেকেরও কম গাড়িতে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। বুধবার সকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে যখন তাঁর বাসভবন থেকে বের হতে দেখা যায়, তখন তাঁর বহরে গাড়ির সংখ্যা ছিল চোখে পড়ার মতো কম।
প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, কনভয়ের গাড়ির সংখ্যা কমানোর এই পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে করা হচ্ছে। নিরাপত্তার জন্য যেটুকু অপরিহার্য, তা বজায় রেখেই বাকি বাড়তি গাড়িগুলি বাদ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, নিরাপত্তায় কোনও আপস না করেই জাতীয় স্বার্থে এই তضح গ্রহণ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে কনভয়ের জন্য নতুন কোনও গাড়ি কেনা যাবে না। পরিবর্তে, যেখানেই সম্ভব হবে, সেখানে পেট্রোল বা ডিজেল চালিত গাড়ির বদলে বৈদ্যুতিক যানবাহন (Electric Vehicles) অন্তর্ভুক্ত করার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত রবিবারই প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর উদ্দেশ্যে এক বিশেষ বার্তা দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি সাধারণ মানুষকে জ্বালানি খরচ কমিয়ে গণপরিবহন ব্যবহারের পরামর্শ দেন। একইসঙ্গে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার সুরক্ষিত রাখতে এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে অন্তত এক বছরের জন্য সোনা কেনা কমানোর অনুরোধও জানিয়েছিলেন তিনি। মোদি ও শাহর এই পদক্ষেপ দেশজুড়ে এক ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে—সংকটকালে শীর্ষ নেতৃত্বই যখন ত্যাগের পথে হাঁটছেন, তখন সাধারণ মানুষের মধ্যেও সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।





