অযোধ্যায় বড় মোড়! রাম মন্দির অনুদান জালিয়াতির তদন্তে চম্পত রায়ের জবানবন্দি রেকর্ড করল পুলিশ

রাম মন্দিরের অনুদান ও নৈবেদ্য চুরির অভিযোগ ঘিরে ক্রমশ জটিল হচ্ছে পরিস্থিতি। এই ঘটনার তদন্তের অংশ হিসেবে মন্দির ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রায়ের জবানবন্দি রেকর্ড করল অযোধ্যা পুলিশ। তদন্তকারী দলের পক্ষ থেকে তাঁর বাড়িতে গিয়েই যাবতীয় নথিপত্র ও তথ্যের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে কী? রাম মন্দির ট্রাস্টের দানের অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী চুরির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে গত ৭ জুন। অভিযোগ ওঠে, মন্দির ট্রাস্টের ভেতরেই পরিকল্পিতভাবে অনুদান আত্মসাৎ করা হচ্ছিল। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে উত্তরপ্রদেশ সরকার ১৩ জুন একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করে। এসআইটি-র প্রাথমিক তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে:

  • প্রক্রিয়ায় গলদ: মন্দির ট্রাস্টের দান গ্রহণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিরাপত্তা প্রোটোকল ও কার্যপ্রণালী (SOP) ব্যাপকভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে।

  • নিরাপত্তায় ফাঁক: সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ, নিরাপত্তা তল্লাশি এবং দানবাক্সের চাবি পরিচালনার ক্ষেত্রে গুরুতর ত্রুটি পাওয়া গেছে।

গ্রেপ্তার ও টাকা উদ্ধার এসআইটি-র রিপোর্টের ভিত্তিতে ২৫ জুন পুলিশ একটি এফআইআর দায়ের করে। এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় মন্দিরের দান গণনার প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের কাছ থেকে নগদ প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা এবং বৈদেশিক মুদ্রা উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন চম্পত রায়ের প্রাক্তন চালক রামশঙ্কর যাদব (টিনু যাদব), যার বিরুদ্ধে নিয়ম ভেঙে দানবাক্সের চাবি নিজের কাছে রাখার অভিযোগ রয়েছে।

বিতর্কের রাজনৈতিক মাত্রা চম্পত রায়ের পদত্যাগের প্রস্তাব এবং এফআইআর দায়ের করতে কর্তৃপক্ষের ‘বিলম্ব’—এই বিষয়গুলো নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গেছে। বিরোধী দলগুলো শুরু থেকেই মন্দির ট্রাস্ট ও কর্মকর্তাদের কাছ থেকে কঠোর জবাবদিহিতার দাবি জানিয়ে আসছে। হরিদ্বারের সাধু-সন্তরাও এই ঘটনায় চম্পত রায়ের দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুলিশের কাছে এফআইআর জানাতে কেন দেরি হলো এবং ট্রাস্টের অন্দরে ঠিক কতটা অনিয়ম চলছিল—সেটিই এখন তদন্তের মূল লক্ষ্য। চম্পত রায় নিজে অবশ্য এই অভিযোগগুলো প্রথম দিকে খারিজ করে দিয়েছিলেন। তবে এখন জবানবন্দি রেকর্ডের পর আইনি প্রক্রিয়ায় এই মামলা কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে দেশবাসী।