অযোগ্যদের অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকা? সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতির তদন্তে এবার নামছে ইডি!

রাজ্যের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলিতে বড়সড় দুর্নীতির ছায়া। ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’, ‘বাংলার বাড়ি’ এবং ‘খাদ্যসাথী’ প্রকল্পের সুবিধা প্রাপকদের তালিকা নিয়ে ওঠা বিস্তর অভিযোগে নড়েচড়ে বসল রাজ্য প্রশাসন। সূত্রের খবর, এই অনিয়ম ও আর্থিক গরমিলের শিকড় খুঁজতে প্রাক্তন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও আবাস যোজনার মতো প্রকল্পে অযোগ্য ব্যক্তিদের সুবিধা পাওয়ার অভিযোগ উঠছিল। শুধু তাই নয়, খাদ্যসাথী প্রকল্পে প্রচুর ভুয়ো রেশন কার্ডের অস্তিত্ব নিয়েও প্রশাসনকে অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছে। রাজ্যের শীর্ষস্তরের আধিকারিকরা মনে করছেন, এই দুর্নীতি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এর পেছনে রয়েছে এক সুসংগঠিত চক্র। সেই কারণেই কোনো সাধারণ সংস্থাকে তদন্তভার না দিয়ে সরাসরি প্রাক্তন বিচারপতির নেতৃত্বাধীন কমিশনের হাতে তথ্য তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে ইডি (এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট)-এর সাহায্য নেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না নবান্ন।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই দুর্নীতির বিষয়ে সরব হয়ে জানিয়েছেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের প্রাপকদের তালিকা নিয়ে নবান্নে ভূরি ভূরি অভিযোগ জমা পড়েছে। বর্তমানে এই প্রকল্পে প্রায় ২ কোটি ৯০ লক্ষ মানুষ সুবিধা নিচ্ছেন। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর দাবি অনুযায়ী, তালিকা যাচাইয়ের সময় প্রায় ৩০ লক্ষ নাম বাদ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর পেছনে থাকা জালিয়াতি ধরতে সম্প্রতি বহরমপুরের রাকিবুল শেখ নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। দীর্ঘ তিন বছর ধরে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পেয়েছেন তিনি। তবে রাকিবুলের বিস্ফোরক দাবি, তিনি কখনোই এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করেননি। তাঁর কথায়, “আমি একা নই, অনেকেই এই চক্রের সঙ্গে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

এই জালিয়াতি শুধু লক্ষ্মীর ভাণ্ডারেই সীমাবদ্ধ নয়, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার এবং প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার তথ্যেও প্রচুর অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। রাজ্য প্রশাসনের এই নজিরবিহীন তদন্তের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। প্রকল্পের সুবিধা প্রাপকদের তথ্য নিখুঁত করতে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রশাসন এখন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিতে চলেছে। সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, জালিয়াতির প্রমাণ মিললে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং উপভোক্তার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে সমস্ত ভুয়ো নাম। এই দুর্নীতি মোকাবিলায় রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপ কতটা সফল হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।