অমিত শাহের ৪৫ দিনের ডেডলাইন! সপ্তম বেতন কমিশন থেকে বকেয়া ডিএ, সরকারি কর্মীদের লটারি না কি কড়া শাসন?

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পর এবার নবান্নের অন্দরে শুরু হয়েছে এক নতুন তৎপরতা। দীর্ঘ পনেরো বছরের ঘাসফুল শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই রাজ্য সরকারি কর্মীদের ভাগ্য এবং কর্মসংস্কৃতি—দুই ক্ষেত্রেই বড়সড় রদবদলের ইঙ্গিত মিলছে। একদিকে যেমন বেতন বৃদ্ধি ও বকেয়া পাওনা মেটানোর আশার আলো দেখা যাচ্ছে, তেমনই অন্যদিকে কেন্দ্রীয় ধাঁচে কড়া অনুশাসনের ভয়ে কাঁটা হয়ে আছেন সরকারি কর্মচারীদের একাংশ।

অমিত শাহের মেগা প্রতিশ্রুতি: সপ্তম বেতন কমিশন ও বকেয়া ডিএ
বিজেপির ‘সংকল্প পত্রে’ সরকারি কর্মীদের জন্য যে সবচেয়ে বড় চমকটি ছিল, তা হলো বেতন কাঠামোয় আমূল পরিবর্তন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নির্বাচনী প্রচারে বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের মাত্র ৪৫ দিনের মধ্যেই রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য ‘সপ্তম বেতন কমিশন’ (7th Pay Commission) কার্যকর করা হবে। বর্তমানে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতার (DA) মধ্যে যে প্রায় ৩৫ শতাংশের আকাশছোঁয়া পার্থক্য রয়েছে, তা বিজেপি সরকার গঠনের পর দ্রুত মিটিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। ফলে আর্থিক লাভের দিক থেকে রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য এটি এক বড় ‘লটারি’ হতে চলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বদলে যাচ্ছে কর্মসংস্কৃতি: ৯:১৫-র ডেডলাইন?
তবে কেবল বেতন বৃদ্ধিই নয়, বিজেপি নেতৃত্ব স্পষ্ট করে দিয়েছে যে ‘কাজের বদলে বেতন’—এই নীতিতেই চলবে নতুন প্রশাসন। বিজেপির মডেল অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকারি অফিসগুলিতে সকাল ৯:১৫ মিনিটের মধ্যে হাজিরা দেওয়া বাধ্যতামূলক। নির্দিষ্ট সময়ের পরে অফিসে পৌঁছালে নৈমিত্তিক ছুটি (Casual Leave) কাটার নিয়ম রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতারা, বিশেষ করে দিলীপ ঘোষের মতো ব্যক্তিত্বরা অতীতে একাধিকবার মন্তব্য করেছেন যে, রাজ্য সরকারি কর্মীদের একাংশের কাজ না করার অভ্যেস হয়ে গিয়েছে। ফলে নবান্নে এবার বায়োমেট্রিক হাজিরা এবং সময়ের কড়াকড়ি নিয়ে কোনো আপস করা হবে না বলেই সূত্রের খবর।

৫ দিনের কর্মদিবস কি বাতিল হচ্ছে?
সবচেয়ে বেশি জল্পনা শুরু হয়েছে ‘ছুটি’ নিয়ে। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অনেক দফতরেই ৫ দিনের কর্মদিবস চালু রয়েছে। কিন্তু ছত্তিশগড়ের মতো বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে প্রশাসনিক গতি বাড়াতে পুনরায় ৬ দিনের কর্মদিবস চালু করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গেও কি একই মডেল অনুসরণ করা হবে? নবান্নের অন্দরে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, প্রশাসনিক সংস্কারের অঙ্গ হিসেবে বিশেষ ছুটি বা অতিরিক্ত শিথিলতা বাতিল করে কাজের সময় বাড়ানো হতে পারে।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ও নতুন নিয়োগ
বিজেপি তাদের ইশতেহারে স্পষ্ট জানিয়েছে, তৃণমূল সরকারের গত ১৫ বছরের প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও দুর্নীতি নিয়ে একটি ‘শ্বেতপত্র’ প্রকাশ করা হবে। এছাড়া ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সমস্ত শূন্যপদে স্বচ্ছ ও মেধা-ভিত্তিক নিয়োগ সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। ‘কাট মানি’ ও ‘সিন্ডিকেট’ সংস্কৃতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে প্রশাসনকে পুরোপুরি স্বচ্ছ করার অঙ্গীকার করেছে নতুন সরকার।

পরিশেষে, পশ্চিমবঙ্গ সার্ভিস রুল অনুযায়ী একজন সরকারি কর্মীর পুরো সময়টাই সরকারের অধীনে। নতুন বিজেপি সরকার সেই রুলবুক মেনে একদিকে যেমন ডিএ ও বেতন বৃদ্ধির উপহার দিতে তৈরি, তেমনই কাজের মান ও শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর হতেও দ্বিধা করবে না। নবান্নের করিডোরে এখন একটাই প্রশ্ন—বেতন বাড়ার আনন্দে হাসবেন কর্মীরা, নাকি কড়া ডিউটির চাপে কপালে ভাঁজ পড়বে?

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy