অমিত শাহের উদ্বোধনের পরই ‘পুলিশি জুলুমের’ আশঙ্কা! সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের পুজো শেষ করা নিয়ে সংশয়ে সজল ঘোষ

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ শুক্রবার সন্ধ্যায় উদ্বোধন করে গেলেন। চতুর্থীর সন্ধ্যায় জনসমুদ্র দেখল সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের পুজো। কিন্তু এত উৎসাহের মধ্যেও পুজো শেষ করা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করলেন উদ্যোক্তা তথা বিজেপি নেতা সজল ঘোষ (Sajan Ghosh)। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, ‘পুলিশি জুলুম’ এতটাই বেড়েছে যে তিনি আদৌও পুজো চালিয়ে যেতে পারবেন কিনা, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।
এবারের এই সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির থিম হলো ‘অপারেশন সিঁদুর’। থিম ঘোষণার পর থেকেই মুচিপাড়া থানা থেকে একের পর এক চিঠি পেতে শুরু করেছে পুজো কমিটি।
ব্যারিকেড দিয়ে দর্শনার্থী আটকের অভিযোগ
কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলর সজল ঘোষের দাবি, পুলিশ সম্পূর্ণ ইচ্ছে করে মণ্ডপের কাছাকাছি ব্যারিকেড তৈরি করছে। এর ফলে দর্শনার্থীরা সহজে মণ্ডপে পৌঁছতে পারছেন না। তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, “পুলিশি জুলুমের মুখে কতক্ষণ পুজো চালাতে পারব জানি না। আরও কিছু পুলিশি নোটিস পাওয়ার অপেক্ষায় আছি, পাশে থাকুন।” সজল ঘোষের এই বিস্ফোরক মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
তবে পুলিশের বক্তব্য ভিন্ন। পুলিশের দাবি, তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য হলো মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দুর্ঘটনা এড়ানো। এর পেছনে অন্য কোনও উদ্দেশ্য নেই।
মুচিপাড়া থানার কড়া নির্দেশিকা
মুচিপাড়া থানা চলতি বছরে ১৪ মে, ১২ জুন, ১৫ জুলাই এবং ৯ সেপ্টেম্বর পুজো কমিটিকে একাধিক নির্দেশিকা পাঠিয়েছে। এই নির্দেশিকাগুলির মধ্যে রয়েছে:
নিরাপত্তা: মণ্ডপের ভিতরে বা আশেপাশে কোনও লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো করা যাবে না এবং কমপক্ষে ৬০টি সিসি ক্যামেরা লাগানো বাধ্যতামূলক।
ট্র্যাফিক ও প্রবেশ: মণ্ডপে ঢোকা ও বেরোনোর জন্য পর্যাপ্ত জায়গা রাখতে হবে। ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া মোড় থেকে ঢোকার গেট পর্যন্ত কোনও বিজ্ঞাপনের গেট বা কাঠামো রাখা যাবে না।
ব্যবসা-বাণিজ্য: মণ্ডপের গেটের কাছাকাছি বা পার্কের পূর্ব প্রান্তে কোনো হকার বা স্টল বসতে দেওয়া যাবে না।
বিনোদন: নাগরদোলা বা কোনও জয় রাইড বসানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
স্বেচ্ছাসেবক: আড়াইশো জন প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন করতে হবে।
এই কঠোর নির্দেশিকার জেরেই বিজেপি নেতা সজল ঘোষ পুজো চালানো নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন। তবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্বোধনের পর এই পুজো কমিটি শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল।