অমিত শাহকে জেল-জীবনের কথা মনে করালেন কংগ্রেস সাংসদ, পালটা জবাব দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ভারতের সংসদের ভেতরে সংবিধান সংশোধনী বিল নিয়ে বিতর্ক এখন ব্যক্তিগত আক্রমণের রূপ নিয়েছে। এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং কংগ্রেস সাংসদ কেসি বেণুগোপাল। সম্প্রতি ১৩০তম সংবিধান সংশোধনী বিল পেশ করা হয়েছে, যা নিয়েই শুরু হয়েছে এই তীব্র বাক-বিতণ্ডা।

বিলটি কী?

কেন্দ্রের প্রস্তাবিত এই বিলটিতে বলা হয়েছে, যদি কোনো রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় বা রাজ্য মন্ত্রী, কিংবা প্রধানমন্ত্রীকে গুরুতর কোনো অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়, যার জন্য ৫ বছর বা তার বেশি কারাদণ্ড হতে পারে, এবং তিনি যদি টানা ৩০ দিন হেফাজতে থাকেন, তবে ৩১তম দিনে তাঁর পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। তবে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি আবার সেই পদ ফিরে পেতে পারেন। এই বিলটি বর্তমানে আলোচনার জন্য একটি সংসদীয় কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে।

বেণুগোপালের আক্রমণ

এই বিলের বিরোধিতা করতে গিয়ে কংগ্রেস সাংসদ কেসি বেণুগোপাল বলেন, এই বিল দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে নষ্ট করছে। তিনি সরাসরি অমিত শাহকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “বিজেপির নেতারা বলছেন এই বিল রাজনীতিতে নৈতিকতা আনবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে একটা প্রশ্ন করব? যখন উনি গুজরাটের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন, তিনি গ্রেফতার হয়েছিলেন। সেই সময় কি নৈতিকতা ধরে রেখেছিলেন?” এর মাধ্যমে তিনি ২০১০ সালের সোহরাবুদ্দিন শেখ ভুয়া এনকাউন্টার মামলার কথা মনে করিয়ে দেন, যেখানে অমিত শাহকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

অমিত শাহের পাল্টা জবাব

বেণুগোপালের এই ব্যক্তিগত আক্রমণের সঙ্গে সঙ্গেই অমিত শাহ জবাব দেন। তিনি বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছিল। কিন্তু সেই সময় তিনি কেবল নৈতিকতার কারণে গুজরাটের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেননি, বরং যতদিন পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ খারিজ না হয়েছে, ততদিন কোনো সাংবিধানিক পদ গ্রহণ করেননি।

তিনি পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন, “আমাদের নৈতিকতা শেখাতে এসেছেন? আমি ইস্তফা দিয়েছি।” অমিত শাহ আরও বলেন, “এতটাও নির্লজ্জ হতে পারি না যে আমাদের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও সাংবিধানিক পদে বসে থাকব।” তিনি স্পষ্ট করে দেন যে গ্রেফতার হওয়ার আগেই তিনি ইস্তফা দিয়েছিলেন।

প্রসঙ্গত, ২০১০ সালে সিবিআই যখন অমিত শাহকে গ্রেফতার করে, তখন তিনি গুজরাটের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। গ্রেফতারের পর তিনি তিন মাস জেলে কাটান। ২০১৪ সালে সিবিআই স্পেশাল কোর্ট প্রমাণের অভাবে তাঁর বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ খারিজ করে দেয়।