অভিষেকের বাড়িতে আচমকা হানা পুলিশের! তালা ভেঙে তল্লাশি, কীসের খোঁজে উত্তাল কালীঘাট?

কালীঘাটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে হঠাৎ পুলিশি হানাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ল রাজ্য রাজনীতিতে। শনিবার সকাল থেকেই পটুয়াপাড়ার ওই বাড়ি ঘিরে ছিল টানটান উত্তেজনা। শালবনি থানার পুলিশের উপস্থিতিতে সকাল থেকেই এলাকা ছিল পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা। তল্লাশি অভিযানের পর সরাসরি সরব হলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

কার খোঁজে এই অভিযান?
সকাল ৭টা নাগাদ যখন শালবনি থানার পুলিশের গাড়ি কালীঘাটে পৌঁছায়, তখন থেকেই জল্পনা তুঙ্গে ছিল। পরে জানা যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নয়, পুলিশ এসেছে তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং দীর্ঘদিনের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের খোঁজে। মূলত আর্থিক তছরুপ এবং জমি কেলেঙ্কারির অভিযোগে নাম জড়িয়েছে সুমিতের। মেদিনীপুরের প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরাকে জমি কেলেঙ্কারির মামলায় গ্রেফতার করার পর, তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই সুমিত রায়ের নাম উঠে আসে বলে পুলিশের দাবি। সেই সূত্র ধরেই একটি ওয়ারেন্ট নিয়ে শালবনি থানার সাত সদস্যের একটি দল কালীঘাটে পৌঁছায়। প্রসঙ্গত, সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে এর আগেও কয়লা পাচার মামলার (লালা সিন্ডিকেট) তদন্তে কেন্দ্রীয় সংস্থা সিবিআই নিজাম প্যালেসে ডেকে বয়ান রেকর্ড করেছিল।

কেন অভিষেকের বাড়িই বেছে নিল পুলিশ?
তদন্তকারী সূত্রে খবর, সুমিত রায়ের মোবাইল টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করেই পুলিশ কালীঘাটের এই ঠিকানায় পৌঁছায়। গতকাল গভীর রাত আড়াইটে পর্যন্ত সুমিত রায়ের লোকেশন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনেই দেখা গিয়েছিল। এই তথ্য পাওয়ার পরেই কোনো ঝুঁকি না নিয়ে শালবনি পুলিশ সরাসরি কালীঘাটে হানা দেয়।

অভিষেকের অন্দরমহলে কী ঘটল?
অভিষেকের বাড়িতে যখন পুলিশ পৌঁছায়, তখন সেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও উপস্থিত ছিলেন। জানা গিয়েছে, ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের সাহায্য নিয়ে পুলিশ বাড়ির তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপরই দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি চালানো হয় এবং বাড়ির অন্দরে থাকা ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

পুলিশ চলে যাওয়ার পর ক্ষুব্ধ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে গোটা বিষয়টির তীব্র নিন্দা করেন। তিনি বলেন, “আমি কাউকে লুকিয়ে রেখেছি কি না, তার জন্য আমার পুরো বাড়ি সার্চ করা হয়েছে। কী পেলেন, তা ওই তদন্তকারী সংস্থার প্রতিনিধিদেরই জিজ্ঞাসা করুন।” অভিষেক দাবি করেছেন, তিনি তদন্তে সবরকম সহযোগিতা করেছেন। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ঘটনা রাজ্যের শাসক দলের অন্দরে বড়সড় অস্বস্তি তৈরি করেছে।