বাংলায় কি তবে বিরোধী কণ্ঠরোধ করতে হিংসার পথ বেছে নিয়েছে শাসকদল? গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তৃণমূলের দুই হেভিওয়েট নেতার ওপর হামলার ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে যেন বারুদের স্তূপ জমেছে। শনিবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর, রবিবার হুগলির চণ্ডীতলায় আক্রান্ত হলেন শ্রীরামপুরের সাংসদ তথা লোকসভার চিফ হুইপ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হুঙ্কার দিলেন—”শেষ পর্যন্ত লড়ে যাব!”
কী ঘটেছিল চণ্ডীতলায়? রবিবার দুপুরে চণ্ডীতলা থানায় একটি পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী স্মারকলিপি জমা দিতে যাচ্ছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ, থানার অদূরেই বিজেপির মদতপুষ্ট একদল সশস্ত্র দুষ্কৃতী লাঠিসোঁটা নিয়ে তাঁর পথ আটকে দাঁড়ায়। গাড়ি লক্ষ্য করে ব্যাপক ইটবৃষ্টি শুরু হয়। এই হামলায় গুরুতর চোট পান প্রবীণ এই আইনপ্রণেতা। খবর পেয়েই আহত কল্যাণের বাসভবনে ছুটে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মমতার ফেসবুক পোস্ট ও হুঁশিয়ারি সাংসদের অবস্থা দেখার পরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সামাজিক মাধ্যমে বিজেপিকে নিশানা করে লেখেন, “বাংলায় রাজনৈতিক দেউলিয়াপনা ও হিংসার চরম রূপ দেখছে দেশবাসী।” তিনি আরও যোগ করেন, “গতকাল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর আজ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর এই হামলা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং গণতন্ত্রের ওপর সরাসরি আঘাত।”
কড়া ভাষায় তৃণমূল নেত্রী জানিয়েছেন, তিনি এই কাপুরুষোচিত আক্রমণের বিরুদ্ধে কেবল রাজপথেই নয়, আইনি লড়াইয়েও শেষ পর্যন্ত লড়বেন। ফ্যাসিবাদী মানসিকতাকে তিনি তীব্র ধিক্কার জানিয়েছেন।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরপর দুই প্রভাবশালী নেতার ওপর হামলার ঘটনা রাজ্যে নজিরবিহীন উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই জোড়া আক্রমণ তৃণমূলের মনোবল ভাঙার একটি পরিকল্পিত চেষ্টা কি না, তা নিয়ে এখন নানা জল্পনা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আক্রমণাত্মক অবস্থান যে আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে এক বড়সড় সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে, তা স্পষ্ট।





