অভিষেককে আলেকজান্ডার বললেন মদন! ১২ দিন আগে কোন শর্তে থমকে গেল আলোচনা? বিস্ফোরক দাবি কামারহাটির বিধায়কের

রাজ্য রাজনীতিতে ক্রমেই চড়ছে উত্তেজনার পারদ। বিধানসভার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিনেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থেকে গেলেন সদ্য দলবদল করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের শিবিরে নাম লেখানো কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। এদিন সরকারি কাজে বাংলা ভাষার গুরুত্ব বৃদ্ধি থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য এবং পঞ্চায়েত বাজেট ঘোষণার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মাঝেও মদন মিত্রের বিস্ফোরক মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। প্রকাশ্যেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব এবং কার্যপদ্ধতি নিয়ে একের পর এক তোপ দাগতে দেখা যায় তাঁকে। তবে একই সঙ্গে তিনি এও স্পষ্ট করেন যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে কখনও কোনো ব্যক্তিগত আক্রমণ বা রুঢ় কথা বলেননি, কিংবা তাঁকে কোনো হুমকিও দেননি।

দলের অন্দরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব ও কর্মপদ্ধতি নিয়ে যে দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ রয়েছে, তা সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন বিদ্রোহী সাংসদ ও বিধায়কদের মুখে বারবার শোনা গিয়েছে। এমনকি স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সম্প্রতি লাইভে এসে মন্তব্য করেছিলেন যে তিনি ভালোভাবেই জানেন অভিষেক দল ছেড়ে চলে গেলে অনেকেই হয়তো আবার ফিরে আসবেন। অন্যদিকে, কড়া ভাষায় বিদ্রোহীদের উদ্দেশ্যে ‘পদত্যাগ’ করার চ্যালেঞ্জও ছুড়ে দিয়েছিলেন অভিষেক। এই উত্তপ্ত রাজনৈতিক আবহের মাঝেই সোমবার বিধানসভায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এক গোপন ও চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করে দিলেন মদন মিত্র।

এদিন সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলে মদন মিত্র বলেন, ‘‘আজ থেকে ঠিক ১২ দিন আগে আমি এবং কুণাল ঘোষ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে গিয়েছিলাম। ওকে সরাসরি প্রস্তাব দিয়েছিলাম যে, আপনি একটি বিবৃতি দিন, আমি দলের সমস্ত দায়িত্ব থেকে এক বছরের জন্য স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়াচ্ছি। দল আপনারা নিজেদের মতো করে সামলান।’’ কিন্তু সেই আলোচনার ফলাফল কী হয়েছিল? মদন মিত্রের দাবি, ‘‘অভিষেক উল্টে আমাদের বলল, আমি দল ছেড়ে দিলে আমার পরিবর্তে আমি কী পাব? তারপর সে দাবি করল তাকে যেন আমেরিকা যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয় এবং আমার সামনে এমন কিছু শর্ত রাখল, যা দেখে মনে হচ্ছিল যেন গ্রিক সম্রাট আলেকজান্ডারের সঙ্গে রাজা পুরু কথা বলছেন!’’ এখানেই থেমে থাকেননি মদন মিত্র, তিনি আরও তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বলেন, ‘‘অভিষেক এখনও বাচ্চা ছেলে, ওর সঠিক চিকিৎসা হওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন, সেটা যেভাবেই হোক না কেন। তবে আমার মন সবসময় মেও রোডেই থাকবে, কিন্তু আমি চলব বিড়লার রাস্তা ধরেই। একুশের ফাইলটা যদি একবার খোলা হয়, তবেই পরিষ্কার হয়ে যাবে আসল লড়াইটা কারা করেছিলেন।’’

অন্যদিকে, এই অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কোন্দল ও উত্তেজনার মাঝেই আইনি জটে বড় ধাক্কা খেয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার আদালতে ডিজে মন্তব্য সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানি চলাকালীন তাঁর আমেরিকা যাওয়ার বিদেশ যাত্রার অনুমতি সাময়িকভাবে খারিজ হয়ে গেছে। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য নির্দেশ দিয়েছেন যে, বিদেশে চিকিৎসার জন্য দেশ ছাড়ার আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে অবশ্যই কলকাতার এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালের চক্ষু বিশেষজ্ঞ বিভাগে গিয়ে চোখের বিশদ পরীক্ষা করাতে হবে। সেই সরকারি পরীক্ষার মেডিকেল রিপোর্ট আদালতে জমা পড়ার পরেই তাঁর চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী অগাস্ট মাসে ধার্য করা হয়েছে, যা এই মুহূর্তে রাজনৈতিক মহলে আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।