একুশের মঞ্চে কি নামবে দুর্যোগের কালো মেঘ? ২১ জুলাইয়ের মেগা সমাবেশে আবহাওয়ার বড় ভোলবদল!

গত পনেরো বছর ধরে বাংলা তথা দেশের রাজনীতির অন্যতম প্রধান আলোচিত কেন্দ্রবিন্দু ছিল ২১ জুলাইয়ের সমাবেশ। রোদ, জল কিংবা ভ্যাপসা গরমকে উপেক্ষা করে বছরের পর বছর এই ঐতিহাসিক দিনে কলকাতার রাজপথে ঢল নামত লক্ষ লক্ষ কর্মী-সমর্থকের। বিগত বছরগুলোতে বহুবার দেখা গিয়েছে যে, মুষলধারে বৃষ্টি নামার পরেও মঞ্চে দাঁড়িয়ে অবিচল থেকেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিংবা দলের সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃষ্টি নামলেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাধারণত কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলতেন যে এটি ‘ঈশ্বরের আশীর্বাদ’। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক সমীকরণ এবং পরিস্থিতির ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে। এবার সেই চেনা মঞ্চ নেই, নেই অতীতের সেই জমজমাট ভিড়। তবে প্রশ্ন উঠছে, এই বদলে যাওয়া পরিস্থিতিতে ২১ জুলাইয়ের আকাশে কি ফের দুর্যোগের কালো মেঘ ঘনিয়ে আসবে? হাওয়া অফিসের সাম্প্রতিক পূর্বাভাস সেই আশঙ্কাই বাড়িয়ে দিয়েছে।
আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের বুলেটিন অনুযায়ী, মঙ্গলবার অর্থাৎ ২১ জুলাইয়ের গোটা দিনজুড়েই আবহাওয়ার বড় রকমের অবনতির সম্ভাবনা রয়েছে। গত সোমবারই দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় তুমুল বৃষ্টিপাত হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের রেকর্ড বলছে, শুধুমাত্র দমদম অঞ্চলেই ২৪ ঘণ্টায় ১৬৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যার জেরে গোটা এলাকার জনজীবন সম্পূর্ণরূপে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। পাশাপাশি বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং পূর্ব বর্ধমান জেলাতেও মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছে। সোমবার বিকেলের পর থেকে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন অংশেও অঝোরে বৃষ্টি ঝরেছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে সক্রিয় মৌসুমি অক্ষরেখার প্রভাবে বর্ষার দাপট বজায় রয়েছে, যার ফলে মঙ্গলবার দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে দফায় দফায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের সমস্ত জেলাজুড়েই আজ ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির হলুদ ও কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
ভারী বৃষ্টির জেরে সোমবারের দুর্যোগের ক্ষত এখনও পুরোপুরি শুকোয়নি কলকাতার বুকে। শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা এবং নিচু এলাকা এখনও জলের তলায় ডুবে রয়েছে। বিশেষ করে দমদম ও তার পার্শ্ববর্তী বহু অঞ্চল জলমগ্ন থাকায় সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগের মুখে পড়তে হচ্ছে। কৈখালি এবং হলদিরাম সংলগ্ন প্রধান রাস্তাগুলোতে জল জমে থাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। যার জেরে মাত্র ৩ থেকে ৪ মিনিটের পথ অতিক্রম করতে সাধারণ গাড়িচালক ও যাত্রীদের আধ ঘণ্টারও বেশি সময় নষ্ট হচ্ছে। চিনার পার্ক এবং ভিআইপি রোড সংলগ্ন এলাকায় জল জমার কারণে কাজের দিনে সকালে অফিসযাত্রীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে।
আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস বলছে, মঙ্গলবার সারাদিনই কলকাতা এবং তার পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে আকাশ মেঘলা থাকবে এবং বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। উপকূলবর্তী অঞ্চল এবং পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতেও বৃষ্টির এই স্পেল অব্যাহত থাকতে পারে। শুধু আজই নয়, আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী বুধবার অর্থাৎ ২২ জুলাই দুই ২৪ পরগনা জেলায় ভারী বৃষ্টির বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এরপর আগামী বৃহস্পতিবারও দুই ২৪ পরগনা ছাড়াও পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম বর্ধমান এবং বাঁকুড়া জেলার বিভিন্ন অংশে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। লাগাতার এই বৃষ্টির জেরে ভ্যাপসা গরম কিছুটা কমলেও, আমজনতার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। মঙ্গলবারের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে পৌঁছেছে ২৩.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। রাজনৈতিক উত্তেজনার পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগের এই ভ্রুকুটি কীভাবে পরিস্থিতি প্রভাবিত করে, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে সকলের।