‘অভিযোগপত্র দাখিল করে দায় ঝাড়া যাবে না’, যোগী পুলিশকে ভর্ৎসনা করে এসআইটি গঠনের ইঙ্গিত প্রধান বিচারপতির

গাজিয়াবাদে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের মামলায় উত্তর প্রদেশ পুলিশের ভূমিকায় চরম অসন্তোষ প্রকাশ করল দেশের শীর্ষ আদালত। সোমবার শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ডি. ওয়াই. চন্দ্রচূড় প্রশ্ন তোলেন, কেন ঘটনার ১৮ ঘণ্টা পর এফআইআর দায়ের করা হল? কেনই বা প্রাথমিক অভিযোগে যৌন নিপীড়ন বা পকসো (POCSO) আইনের ধারা যুক্ত করা হয়নি? পুলিশের পেশ করা স্ট্যাটাস রিপোর্ট খতিয়ে দেখার পর হাসপাতালগুলোর ভূমিকা নিয়েও হলফনামা তলব করেছে আদালত।

আদালতে আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী হরিহরণ দাবি করেন, গত ১৬ মার্চ ঘটনাটি ঘটলেও পুলিশ দীর্ঘ ১৮ ঘণ্টা গড়িমসি করে ভোর সাড়ে ৩টে নাগাদ এফআইআর করে। এমনকি অভিযোগকারী শ্রমিক যখন মামলা করতে যান, তাকে থানায় মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ ওঠে। মামলাকারীর দাবি, নাবালিকা যে জীবিত ছিল তার ভিডিও প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও পুলিশ দাবি করছে শিশুটি মৃত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে। এই ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ তুলে একটি বিশেষ তদন্ত দল (SIT) গঠনের দাবি জানানো হয়েছে।

যোগী সরকারের পক্ষে এএসজি ঐশ্বর্য ভাটি জানান, ইতিমধ্যেই ৩ এপ্রিল চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে এবং ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্টও সংগৃহীত হয়েছে। তবে প্রধান বিচারপতি সাফ জানান, “কেউ আদালতে এলেই আপনারা চার্জশিট দাখিলের কথা বলেন, এটা উদ্বেগজনক।” আদালত নির্দেশ দিয়েছে, সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ ও ভিডিও প্রমাণ আবেদনকারীকে সরবরাহ করতে হবে। প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, “আমরা এখনই এসআইটি গঠন করছি না, তবে পুলিশের জমা দেওয়া নথিতে বড় কোনো ত্রুটি ধরা পড়লে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” মামলার গুরুত্ব বিচার করে অভিযুক্ত হাসপাতালগুলোকেও পরবর্তী শুনানিতে হলফনামা দিতে বলেছে সুপ্রিম কোর্ট।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy