অভিমান নাকি বিদ্রোহ? মমতা-কাকলির ৪২ বছরের সম্পর্কে হঠাৎ কেন এমন ফাটল?

 দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, সুসময় থেকে দুঃসময়— মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী হিসেবেই পরিচিত ছিলেন তিনি। কিন্তু লোকসভায় তৃণমূলের দলীয় পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরেই কি সেই সম্পর্কে যবনিকা পড়ল? দলের এই সিদ্ধান্তে প্রকাশ্যেই নিজের তীব্র অভিমান উগরে দিলেন বর্ষীয়ান সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার।

মুখ্য সচেতক পদে বড় রদবদল: বৃহস্পতিবার নিজের বাসভবনে সাংসদদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, সেই বৈঠকেই স্থির হয় লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় দলের মুখ্য সচেতক (Chief Whip) পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে। তাঁর জায়গায় ওই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় বিস্ফোরক পোস্ট: দলীয় পদ হারানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শুক্রবার সকালে ফেসবুকে একটি ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করেন কাকলি। যেখানে ঝরে পড়েছে চরম অভিমান ও একরাশ যন্ত্রণা। তিনি লেখেন, ‘৭৬ থেকে পরিচয়, ৮৪ থেকে পথ চলা শুরু। ৪ দশকের আনুগত্যের জন্য আজ পুরস্কৃত হলাম।’

দীর্ঘ সম্পর্কের ইতি? কাকলির এই পোস্টের প্রতিটি শব্দ যে সরাসরি তৃণমূল সুপ্রিমোর উদ্দেশ্যেই ছোঁড়া, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই রাজনৈতিক মহলে। ১৯৭৬ সালে মমতা যখন ছাত্র পরিষদের নেত্রী, তখন থেকেই একই আদর্শের পথে লড়ছেন কাকলিও।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy