দীর্ঘ ১৫ বছরের একাধিপত্যের অবসান। বিধানসভা থেকে পঞ্চায়েত—যেখানে জয় ছিল তৃণমূলের কাছে জলভাত, ২০২৬-এর নির্বাচনে সেই দুর্গের পতন হয়েছে। আর এই পরাজয়ের পরেই তৃণমূলের অন্দরের দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ আগ্নেয়গিরির লাভার মতো বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। আলিপুরদুয়ারে বিজেপির হাতে ৫-০ গোল খাওয়ার পর এবার দলেরই রণকৌশল এবং ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাক-এর (I-PAC) বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা করলেন তৃণমূলের দাপুটে নেতা ও প্রাক্তন বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তী।
একসময় আলিপুরদুয়ার জেলার সংগঠনের দায়িত্ব সামলানো সৌরভকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি উন্নয়ন পর্ষদের (SJDA) চেয়ারম্যানও করেছিলেন। সেই বিশ্বস্ত নেতার গলাতেই এখন হারের ময়নাতদন্ত করতে গিয়ে ঝরে পড়ছে একরাশ বিরক্তি। সৌরভের নিশানায় মূলত দলের প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া এবং আইপ্যাক-এর ভূমিকা। তাঁর প্রশ্ন, “যাদের আমরা সংগঠনে আনছি, তারা কতদিন রাজনীতিতে আছে? কেন তারা শাসক দলে আসছে? বুথ স্তর থেকে ব্লক—এই যে কমিটিগুলো তৈরি হল, তা কার কথায় হলো? আমরা খোদ নেতারাই জানি না!”
আইপ্যাক-এর কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, “প্রার্থী নির্বাচনের সময় আইপ্যাক-এর মাপকাঠি কী ছিল? আজ যখন আমাদের দলের কার্যালয় ভাঙচুর হচ্ছে, কর্মীরা আক্রান্ত হচ্ছে, তখন সেই রণকৌশলীরা কোথায়?” সৌরভের অভিযোগ, দলের দীর্ঘদিনের পোড়খাওয়া ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতাদের সরিয়ে দিয়ে স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, দলের ‘ক্রিম’ বা আসল লড়াকু কর্মীদের বসিয়ে দিয়ে সংগঠনের অপূরণীয় ক্ষতি করা হয়েছে।
বিস্ফোরক এই তৃণমূল নেতা শুধু আইপ্যাক নয়, প্রশাসনিক স্তরের একাংশকেও কাঠগড়ায় তুলেছেন। তাঁর দাবি, প্রশাসনের কিছু ব্যক্তি ‘দালালি’ করে দলকে ভুল রিপোর্ট দিয়েছেন এবং নেতৃত্বকে বিভ্রান্ত করেছেন। অভিজ্ঞ নেতাদের সাইডলাইন করার মাশুলই যে ২০২৬-এর এই ঐতিহাসিক ভরাডুবি, তা এখন আর গোপন রাখছেন না সৌরভ চক্রবর্তী। এই বিদ্রোহের সুর তৃণমূলের অন্দরে আরও বড় কোনো ভাঙনের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।





