অভাব আর বটুয়ার জমানো টাকায় তৈরি হয়েছে সুবিশাল মন্দির! বাঁকুড়ার নূতনচটির লক্ষ্মীপুজোর অবিশ্বাস্য ইতিহাস

বাঁকুড়া শহরের নূতনচটি রুইদাস ষোলআনা লক্ষ্মী মন্দির এখন বাঁকুড়ার অন্যতম বড় উৎসবের কেন্দ্র। এই সুবিশাল লক্ষ্মীপুজো এবার প্রায় ১৮৩ বছরে পদার্পণ করল। এই জাঁকজমকপূর্ণ উৎসবের নেপথ্যে লুকিয়ে আছে এক অবিশ্বাস্য ইতিহাস, যা জানলে অবাক হতে হয়।
ব্রাত্যজনদের হাত ধরে শুরু পুজো
মূলত চর্মকার সম্প্রদায়ের (রুইদাস ষোলআনা) মানুষরা এই পুজো করে থাকেন। এলাকায় রয়েছে জুতো এবং চটি তৈরির দীর্ঘ ইতিহাস। কথিত আছে, একসময় স্থানীয় চর্মকারদের দুর্গাপূজায় অংশ নিতে দেওয়া হত না, এমনকি তাঁদের হাতে তৈরি জুতো বা অর্থের আদান-প্রদানও করা হতো না।
পুজোর ব্যস্ততা শেষে এই বঞ্চনার জবাব দিতেই চর্মকার সম্প্রদায় সিদ্ধান্ত নেয়— তাঁরা নিজেদের মতো করে লক্ষ্মী পুজো করবেন, যা একদিন বড় বড় দুর্গাপূজাকেও ছাপিয়ে যাবে। সেই থেকে শুরু। ছোট এক মূর্তি থেকে ১৮৩ বছর পর আজ তৈরি হয়েছে সুবিশাল মন্দির।
প্রতিদিনের রোজগারে তৈরি হয়েছে ইতিহাস
এই মন্দিরের সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি মানুষ নিজেদের প্রতিদিনের রোজগারের একটি অংশ তুলে রাখতেন লক্ষ্মীপুজোর জন্য। মন্দির প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে সাজসজ্জা কিংবা বিরাট বিগ্রহ স্থাপন করা— সবই হয়েছে তাঁদের নিজস্ব উদ্যোগে ও গাঁটের খরচায়। এইভাবেই তিল তিল করে গড়ে উঠেছে ১৮৩ বছরের এই ইতিহাস।
পূজার বিভিন্ন অনুষ্ঠানের পর থাকছে নরনারায়ন সেবার আয়োজন। ব্যস্ত রাস্তার ঠিক পাশেই এই জাঁকজমকপূর্ণ লক্ষ্মী পুজো দেখতে ভিড় জমান বাঁকুড়ার মানুষ। একসময় যাঁরা চর্মকারদের দুর্গা পুজোয় অংশ নিতে দিতেন না, তাঁরাও বর্তমানে এই লক্ষ্মী পুজোতে অংশ নেন।
দুর্গাপূজা শেষ হলেও এই নূতনচটি রুইদাস ষোলআনা লক্ষ্মী পুজো পর্যন্ত বাঙালির উৎসবের রেশ অব্যাহত থাকে। এই পুজো একদিকে যেমন ধর্মীয় আরাধনা, তেমনি অন্যদিকে সামাজিক বঞ্চনার বিরুদ্ধে এক ঐতিহাসিক প্রতিবাদের গল্প তুলে ধরে।