দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। ভারতে চালু হতে চলেছে ইলন মাস্কের স্যাটেলাইট-ভিত্তিক ইন্টারনেট পরিষেবা স্টারলিঙ্ক (Starlink)। নীতিগত জট ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার ছাড়পত্রের অপেক্ষা ছিল বহুদিন ধরে। অবশেষে Indian National Space Promotion and Authorization Center (IN-SPACe) স্টারলিঙ্ককে সবুজ সঙ্কেত দিয়েছে। এখন আর কোনো বাধা নেই ভারতের আকাশে স্টারলিঙ্কের তরঙ্গ ছড়িয়ে দেওয়ার।
গত মাসেই কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের ছাড়পত্র পায় স্টারলিঙ্ক। কিন্তু ভারতের মহাকাশ নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন ছাড়া শুরু করা যাচ্ছিল না পরিষেবা। সেই ছাড়পত্র বুধবার মেলে। ফলত, ভারতের ডিজিটাল পরিকাঠামো আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।
এখন থেকে স্টারলিঙ্ক, ওয়ানওয়েব (OneWeb) ও রিলায়েন্স জিও স্যাটকম (JioSatcom)-এর পর ভারতের তৃতীয় স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা। তবে ৭০টিরও বেশি দেশে পরিষেবা চালু থাকায় অভিজ্ঞতার নিরিখে স্টারলিঙ্ক এগিয়ে রয়েছে অনেকটাই।
ছাড়পত্র মিলতেই ভারতে পরিকাঠামো তৈরির তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছে স্টারলিঙ্ক। সরকারি প্রক্রিয়া অনুযায়ী, সংস্থাকে এবার স্পেকট্রাম কিনতে হবে সরকারের কাছ থেকে। ইলন মাস্কের সংস্থার তরফে পরিষেবা চালুর নির্দিষ্ট তারিখ এখনও ঘোষণা না হলেও, সূত্রের খবর, আগামী দু’মাসের মধ্যেই শুরু হয়ে যেতে পারে স্টারলিঙ্ক ইন্টারনেট পরিষেবা।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, স্টারলিঙ্ক ব্যবহার করতে গ্রাহকদের মাসে প্রায় ₹৩,০০০ খরচ হতে পারে।
তবে শুধু মাসিক ফি নয়, শুরুতেই কিনতে হবে একটি হার্ডওয়্যার কিট, যার মধ্যে থাকবে স্যাটেলাইট ডিশ ও ওয়াইফাই রাউটার। এর দাম প্রায় ₹৩৩,০০০ হতে পারে।
গ্রামীণ ও দুর্গম এলাকায়, যেখানে এখনও ব্রডব্যান্ড বা ফাইবার সংযোগ পৌঁছায়নি, সেখানে স্টারলিঙ্ক বদলে দিতে পারে চিত্রটা। পাহাড়, দ্বীপ, বনাঞ্চল কিংবা সীমান্তবর্তী গ্রাম— স্টারলিঙ্কের টার্গেট সেই সব অঞ্চলই, যেখানে স্থলভিত্তিক ইন্টারনেট পৌঁছানো কঠিন।
ভারতে স্টারলিঙ্কের প্রবেশ শুধুমাত্র একটি প্রযুক্তিগত অগ্রগতি নয়, বরং এটি দেশের ডিজিটাল বিভাজন দূর করার পথে এক বিশাল পদক্ষেপ। প্রত্যন্ত ভারতের ঘরে ঘরে যদি স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পৌঁছে যায়, তাহলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা— সব ক্ষেত্রেই আসবে আমূল পরিবর্তন।





