অপারেশন সিঁদুরের গোপন তথ্য পাচার! জয়সলমেরে গ্রেফতার আরও এক পাক-গুপ্তচর, কী ছিল হানিফ খানের ভূমিকা?

ভারতীয় সেনাবাহিনী সম্পর্কিত একাধিক গোপন খবর মোটা টাকার বিনিময়ে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইকে (ISI) পাচার করার অভিযোগে আরও এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করল রাজস্থানের সিআইডি। ধৃত ব্যক্তির নাম হানিফ খান। বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) জয়সলমের থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

তদন্তকারীদের দাবি, ধৃত হানিফ খান কেবল সাধারণ তথ্য নয়, ‘অপারেশন সিঁদুরের’ সময়ও ভারতীয় বাহিনীর বিষয়ে আগাম খবরাখবর দিয়ে পাকিস্তানকে সাহায্য করেছে।

সীমান্তে কড়া নজরদারি, মিলল গুপ্তচরের খোঁজ
রাজস্থানের বিভিন্ন এলাকার উপর গোয়েন্দারা কড়া নজর রাখছিলেন। বিশেষ করে সীমান্তের আশপাশের জেলাগুলিতে বাড়তি নজর রাখার ফলেই হানিফের খোঁজ মেলে। সিআইডি-র আইজি বিষ্ণুকান্ত এই গ্রেফতারির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা গিয়েছে, হানিফের বাড়ি জয়সলমেরের সদর থানা এলাকার একটি গ্রামে। আন্তর্জাতিক সীমান্তের দূরত্ব সেখান থেকে খুব বেশি নয়। এই নিয়ে চলতি বছরে জয়সলমের থেকে এ পর্যন্ত চারজনকে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেফতার করল পুলিশ।

যেভাবে চলত তথ্য পাচার
তদন্তে প্রকাশ, হানিফ খান কয়েকটি সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নিয়মিতভাবে পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত।

সুযোগ: ভারত-পাকিস্তান আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছে গ্রামের বাসিন্দা হওয়ায়, সামরিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাতেও হানিফ সহজেই প্রবেশ করতে পারত। সেখান থেকেই সে সেনাবাহিনীর গোপন তথ্য হাতিয়ে তা পাকিস্তানে পাচার করত।

যে তথ্য পাচার হয়েছিল: সিআইডি সূত্রে খবর, হানিফের কাছে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কেন্দ্র এবং সেনার গতিবিধি সম্পর্কে একাধিক তথ্য ছিল। ‘অপারেশন সিঁদুরের’ সময়ও সে সেনা জওয়ানদের মোতায়েন সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর আইএসআইয়ের কাছে পৌঁছে দিয়েছিল।

জয়পুরে সিআইডির সদর দফতরে হানিফের মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে এবং তাকে জেরা করে নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে যে সে সামরিক তথ্য সরবরাহের জন্য পাকিস্তান থেকে নগদ টাকা নিয়েছিল। সুনির্দিষ্ট প্রমাণ সংগ্রহের পরই সিআইডি তাকে গ্রেফতার করে।

এর আগে পাঞ্জাব পুলিশ এবং দিল্লি থেকে একাধিক পাক-গুপ্তচরকে গ্রেফতার করা হয়েছিল, যাদের সঙ্গে দিল্লিতে কর্মরত পাক হাইকমিশনের আধিকারিকদের যোগসূত্র মিলেছিল। সেই সূত্রেই জ্যোতির সঙ্গে যোগাযোগ থাকায় এক পাক-আধিকারিককে ভারত ছাড়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।