অপারেশন মহাদেবের সূত্র থেকে সাফল্য, পাহেলগামের জঙ্গিদের সহযোগী গ্রেফতার, উন্মোচিত হল গোপন চক্র

জম্মু ও কাশ্মীরের পাহেলগামে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে হওয়া ভয়ঙ্কর জঙ্গি হামলার তদন্তে একটি বড় সাফল্য পেয়েছে তদন্তকারী সংস্থাগুলো। মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, ওই হামলায় সন্ত্রাসীদের সাহায্যকারী মোহাম্মদ কাটারিয়াকে গ্রেফতার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। জানা গেছে, জুলাই মাসে চালানো ‘অপারেশন মহাদেব’-এর সময় উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের ফরেনসিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।

ধর্ম জিজ্ঞাসা করে হামলা
২২শে এপ্রিল পাহেলগামের বিখ্যাত বাইসরান উপত্যকায় বেড়াতে আসা ২৬ জন নিরীহ পর্যটককে জঙ্গিরা নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, হামলাকারীরা প্রথমে ধর্ম জিজ্ঞেস করে মানুষকে লক্ষ্য করে এবং খুব কাছ থেকে গুলি চালায়। এই হামলার পেছনে ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ (TRF) নামক একটি সন্ত্রাসী সংগঠনের নাম উঠে আসে, যা পাকিস্তান-সমর্থিত লস্কর-ই-তৈয়বার সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করা হয়।

ভারতের কড়া পদক্ষেপ
এই হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। ভারত সরকার প্রতিশোধ নিতে বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ নেয়, যার মধ্যে সিন্ধু জল চুক্তি পুনরায় পর্যালোচনা এবং কূটনৈতিক স্তরে আক্রমণাত্মক কৌশল অন্তর্ভুক্ত ছিল।

অপারেশন সিন্দুর ও অপারেশন মহাদেব
হামলার প্রতিশোধ নিতে ভারত মে মাসের শুরুতে ‘অপারেশন সিন্দুর’ নামে একটি সামরিক অভিযান শুরু করে। এই অভিযানের অধীনে পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর (POK) এবং পাকিস্তানের ভেতরে সন্ত্রাসীদের ৯টি ঘাঁটি লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়। এতে বেশ কয়েকটি পাকিস্তানি এয়ারবেসেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়। এর ফলে ভারত-পাক সীমান্তে চার দিন ধরে তীব্র উত্তেজনা বজায় ছিল।

এরপর জুলাই মাসে ভারত ‘অপারেশন মহাদেব’ পরিচালনা করে, যেখানে নিরাপত্তা বাহিনী লস্কর-ই-তৈয়বার তিন প্রধান সন্ত্রাসী সুলেমান, আফগান এবং জিব্রানকে নিকেশ করে। এই অভিযানে এটি নিশ্চিত হয় যে পাহেলগামের হামলার ষড়যন্ত্র লস্কর-ই-তৈয়বাই করেছিল এবং টিআরএফ তারই সহযোগী সংগঠন। মোহাম্মদ কাটারিয়ার গ্রেফতার একই ধারাবাহিকতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন, কারণ এর মাধ্যমে শুধু স্থানীয় সমর্থন ব্যবস্থাই নয়, বরং পাকিস্তান-সমর্থিত সন্ত্রাসের গভীর নেটওয়ার্কেরও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

অমিত শাহের বিবৃতি
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাজ্যসভায় বলেন যে, ‘অপারেশন সিন্দুর’ এবং ‘অপারেশন মহাদেব’ প্রমাণ করেছে যে, ভারত এখন কোনো সন্ত্রাসী হামলার জবাব দিতে দেরি করে না। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, যেখানে পাল্টা আক্রমণ দ্রুত, সুনির্দিষ্ট এবং কৌশলগত হয়। তিনি এটিকে বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কার্যকর প্রতিক্রিয়া বলে অভিহিত করেন।