চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ড কেবল একটি সাধারণ অপরাধ নয়, বরং এটি ছিল একটি ঠান্ডা মাথার সুপরিকল্পিত খুন। ময়নাতদন্তের পর এবার পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে যে তথ্য সামনে এসেছে, তাতে স্পষ্ট যে চন্দ্রনাথকে মারার জন্য দীর্ঘ এক সপ্তাহ ধরে ছক কষেছিল পেশাদার আততায়ীরা। টানা ৭ দিন ধরে তাঁর গতিবিধির ওপর নজর রাখা বা ‘রেইকি’ করার পরেই চালানো হয়েছে অপারেশন।
ছায়ার মতো পিছু নিয়েছিল খুনিরা তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, খুনিরা চন্দ্রনাথের দৈনন্দিন রুটিন সম্পর্কে পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য জানত। গত সাত দিন ধরে তিনি কখন বাড়ি থেকে বেরোতেন, কোথায় যেতেন এবং কার সঙ্গে দেখা করতেন—সবটাই রেকর্ড করা হয়েছিল। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজন যুবককে কয়েক দিন ধরেই চন্দ্রনাথের পাড়ায় এবং কর্মক্ষেত্রের আশেপাশে ঘুরঘুর করতে দেখা গিয়েছিল। তারা মূলত সুযোগের অপেক্ষায় ছিল যাতে জনসমক্ষে নয়, বরং নিরাপদ কোনও নির্জন স্থানে কাজ হাসিল করা যায়।
পেশাদার ‘সুপারি কিলার’-এর যোগ যেভাবে পরপর তিনটি গুলি সরাসরি লক্ষ্যভেদ করেছে এবং চন্দ্রনাথকে পালানোর বিন্দুমাত্র সুযোগ দেওয়া হয়নি, তাতে গোয়েন্দারা নিশ্চিত যে এটি কোনও আনাড়ি হাতের কাজ নয়। ভিনরাজ্যের কোনও পেশাদার ‘সুপারি কিলার’ বা ভাড়াটে খুনিকে এই অপারেশনের জন্য নিয়োগ করা হয়েছিল বলে প্রাথমিক অনুমান। খুনিরা জানত ঠিক কতটুকু দূরত্ব থেকে গুলি চালালে হার্ট এফোঁড়-ওফোঁড় হয়ে যাবে।
তদন্তের নিশানায় কারা? পুলিশের ধারণা, কেবল আর্থিক লেনদেন নয়, এর নেপথ্যে পুরনো কোনও শত্রুতা বা বড় কোনও ব্যবসায়িক প্রতিহিংসা কাজ করছে। খুনিরা পালানোর জন্য যে রুট ব্যবহার করেছে, তা-ও আগে থেকে ঠিক করা ছিল। ইতিমধ্যেই স্থানীয় সিসিটিভি ফুটেজ এবং চন্দ্রনাথের মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন খতিয়ে দেখে আততায়ীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
আতঙ্কে এলাকা ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী সময়ে রাজ্যে যখন শান্তি ফেরার কথা, তখন তিলোত্তমার বুকে এমন পেশাদার কায়দায় খুন মানুষের নিরাপত্তাকে বড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, “আমরা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্লু পেয়েছি। খুনিরা যতই পেশাদার হোক, খুব দ্রুত তাদের জালে তোলা হবে।” এক সপ্তাহ ধরে ছায়ার মতো পাশে ঘুরে বেড়ানো সেই ঘাতকরা আসলে কারা? কার নির্দেশে ঝাঁঝরা হতে হলো চন্দ্রনাথকে? উত্তর খুঁজছে লালবাজার।





